অতীত একটা ভিনদেশ : অস্তিত্বের দোলাচলবৃত্তি

255 Views

Spread the love

অনেকেই মনে করেন, রবীন্দ্রনাথের হাতে বাংলা ছোটগল্পের শক্তপোক্ত একটি বুনিয়াদ তৈরি হয়েছে। তারপর প্রায় ১০০ বছর ধরে তাঁর পরবর্তী কথাসাহিত্যিকরা সেই বুনিয়াদকে বড়সড় একটি নির্মাণের দিকে নিয়ে যেতে পেরেছেন। সেই বহমানতাকে বজায় রেখে গত শতাব্দীর নানা বাঁকে ছোটগল্প নিয়ে অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, একেকটা সময় একদল নতুন গল্পকার অনেক সফল ছোটগল্প লিখেছেন।

বর্তমানেও এ ধরনের তরুণ গল্পকারের অভাব নেই। অনেকেই বেশ ভালো গল্প লিখছেন। সুনাম অর্জন করছেন। পাঠকপ্রিয়তাও পাচ্ছেন। তবে কেন জানি, তরুণ গল্পকারদের ঘিরে তেমন একটা মাতামাতি ঠিক চোখে পড়ে না। অথচ ভালো গল্প লেখা খুব সহজ ব্যাপার নয়। মোজাফ্ফর হোসেন তেমনই একজন আলোচিত তরুণ গল্পকার, যার গল্পে ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র একটি ধারা তৈরি হয়েছে। তার গল্পগুলোয় সেই স্বাতন্ত্র্যের ছাপ খুব স্পষ্ট। অথচ এতে তার খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। বিরাট ঝুঁকি নিয়ে চেনা জগতের বাইরের কিছু আমাদের সামনে হাজির করতে হয়নি। চারপাশের জগৎ, চেনা পরিবেশ, তারই মধ্যে একটু অন্যরকম বিষয় নিয়ে মোজাফ্ফরের চলাফেরা। তার গল্পের ভাষা, বর্ণনা, সংলাপ পড়তে পড়তে মনে হয় তিনি আমাদের যেন নতুন অভিজ্ঞতার অভিজ্ঞান দিলেন।

মোজাফ্ফরের গল্প চিন্তায় গভীর, কল্পনায় অসীম, চেতনায় ব্যতিক্রম। অনেকটা আধুনিকতাকে ছাপিয়ে বহুদূর অগ্রগামী বলে মনে হতে পারে। ফলে তার গল্প সংকলন নিঃসংশয়ে সময়ের এক ব্যতিক্রমী গল্প সংকলন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার তৃতীয় গল্পগ্রন্থ ‘অতীত একটা ভিনদেশ’ এ মোট ১৪টি গল্প রয়েছে। ‘বাঁশিওয়ালা মজ্জেল’ গল্পে দুজন মানুষ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আলাপ করছেন তাদের অতীত জীবন নিয়ে। দুজনই মৃত। তাদের কথার ভেতর দিয়ে ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের চিত্র ফুটে ওঠে। ‘একটা কুকুর অথবা একজন কবির গল্প’ অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজির অধ্যাপক ড. রেজাউল করিমের হাত ধরে এগিয়ে যায়। তবে গল্পে নানা বাঁক পেরিয়ে অবশেষে ভিনদেশের মতো এই দেশটাও তাঁর অচেনাই রয়ে গেল। ‘ভ্যাদা কবির প্রস্থান কবিতা’ গল্পে লেখকের চিরচেনা নিশ্চিন্তপুর গ্রামের দেখা মেলে। তার কোনো কোনো চরিত্র বাস্তবতা থেকে নেওয়া। এই ভ্যাদা কবিও তাদের একজন। ‘লাশটি জীবিত বাকিরা মৃত’ শিরোনাম দেখে একে নিঃসন্দেহে অতিপ্রাকৃত গল্প মনে হতে পারে। তবে সে সিদ্ধান্তে যাওয়া অতটা সহজ নয়।

‘ঘুমপাড়ানো জল’ সাতচল্লিশের দেশ বিভাগের গল্প। দেশ বিভাগ নিয়ে দু’বাংলায় প্রচুর গল্প-সিনেমা আছে। এখনো হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। বিচ্ছেদের ক্ষত কি সহসাই শুকাবে? তাই তো গল্পে দেখতে পাই—দেশভাগের সময় ভারতে চলে যাওয়া এক ব্যক্তি তার ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এসেছে ফেলে যাওয়া ভিটে-মাটি দেখতে। এমনকি রেখে যাওয়া মানুষগুলোকেও দেখতে চায়। সে যখন গিয়েছিল; তখন কিশোর ছিল। অথচ ফিরে এসেছে মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। মাঝখানের এতটা বছরের ব্যবধানে সব ওলট-পালট হয়ে গেছে। সে কিছুতেই অতীতের স্মৃতির সঙ্গে বাস্তবতা মেলাতে পারছে না। ‘ঘুমপাড়ানো জল’র মতো দেশভাগের আরেকটি গল্প ‘একটি নদীর গল্প’। এ গল্পে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল মাস্টার নদী নদী করে পাগল হয়ে গেল। তার নিজের হাতে গড়া বাড়িকে সে অস্বীকার করে তার শৈশবের নদীগ্রামকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে। যেটি সে ফেলে এসেছে পশ্চিমবাংলায়। একসময় বাড়ির পেছনে নর্দমায় কোদাল দিয়ে খুঁড়তে খুঁড়তে মারা যায়। অতীত খনন করতে করতে অতীতেই ফিরে গেল হয়তো।

চারপাশের জগৎ, চেনা পরিবেশ, তারই মধ্যে একটু অন্যরকম বিষয় নিয়ে মোজাফ্ফরের চলাফেরা। তার গল্পের ভাষা, বর্ণনা, সংলাপ পড়তে পড়তে মনে হয় তিনি আমাদের যেন নতুন অভিজ্ঞতার অভিজ্ঞান দিলেন।

‘যেখানে যুদ্ধের বিকল্প ছিল না’ গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের। এখানে কেউ পালাতে চায়; কেউ যুদ্ধ করতে চায়। ১৯৭১ সালের বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে কাহিনিটি নির্মাণ করেছেন লেখক। তবে সবশেষে মফেদুল কী জানি কী ভেবে ডান দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। ওদিকটাই সমান দূরত্বে ক্যাম্প গেড়েছে মুক্তিসেনারা। অর্থাৎ মফেদুলও যুদ্ধে অংশ নেয়। ‘না লিখতে পারা গল্পটা’য় বছরতিনেক আগে মেয়েটির সঙ্গে প্রথম দেখা হয় লেখকের। লেখকের জবানিতে বলা গল্পেই মেয়েটিকে চিনতে পারি আমরা। মেয়েটি বীভৎস সমাজের প্রতিনিধি। তবুও লেখক যেন মেয়েটিকে নিয়ে কোনোদিন কিছু লেখেননি। একটি শব্দও না।

‘খোয়াব’ গল্পটি মানুষের ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নকে কেন্দ্র করে। স্বপ্ন কখনো কখনো সত্যি হয়। কেননা ওই রাতেই ছাদচাপা পড়ে মারা পড়লেন গল্পের হাফি চাচা। ‘জীবনটা গল্পের অথবা মরীচিকার’ মধ্যে হাসিব ও নীলার ঝগড়া বা নৈঃশব্দ্য পাঠককে স্পর্শ করে গভীরভাবে। ‘মৎস্যজীবন’ গল্পে মাছ বাজারে সুন্দরী দেখে চমকে ওঠেন গল্পকথক। বাজার করতে গিয়ে পরকীয়ার স্পর্শ পান তারা। অবশেষে যদিও তারা নিজেদের নীড়ে ফিরতে পেরেছিলেন। ইরাই বাড়ি ফিরতে সাহায্য করেছিল কথককে।

‘কেবল কথা বলতে চেয়েছিলাম’ গল্পটি লেখকের বাল্যপ্রেমের। বাল্যপ্রেম ছাপিয়ে শেষপর্যন্ত লেখকের ক্ষয়ে যাওয়া অতীতটা মুখ্য হয়ে উঠেছে। ‘সুখ অসুখ’ গল্পে গল্পকথক স্মৃতিচারণার ভেতর দিয়ে একটি দীর্ঘ সময়কে আমাদের সামনে তুলে এনেছেন। বড় ক্যানভাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে এ গল্পে। সবশেষে ‘ছুঁয়ে দেখা জীবন’ গল্পটি এ গ্রন্থের সবচেয়ে ঘোরলাগা গল্প। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে রহমান। সে অতীত-বর্তমান গুলিয়ে ফেলছে। ফলে এ গল্পে টাইম অ্যান্ড সেটিং ভেঙে গেছে। রহমান একবার ফিরে যাচ্ছে অতীতে, তার কিশোর বয়সে, আরেকবার ফিরে আসছে বর্তমানে। রহমান মায়ের হাত ধরে কিশোর বয়সে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। বাবার সঙ্গে মায়ের সম্পর্কচ্ছেদের কারণে সে আর গ্রামে ফিরে যায়নি। শেষ বয়সে এসে তার মনে হচ্ছে, সেদিন সে মায়ের সঙ্গে না এলে অন্য একটা জীবন যাপনের সম্ভাবনা তার ছিল। সে কৌশলে তার কল্পজগতে তার মায়ের সঙ্গে আসার ঘটনাকে বদলে দিচ্ছে। সে এলো না। অর্থাৎ একটা রহমান গ্রামে থেকে গেল। মুখে আত্মতৃপ্তির হাসি নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করল রহমান।

তার গল্পের চরিত্ররা অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যতে ঘুরে বেড়ায় অনায়াসে। এমনকি মৃতরাও ফিরে আসে কিংবা জীবিতরা চলে যায় মৃতের জগতে। পাঠক প্রায়ই ধন্দে পড়ে যাবেন, ঘোরের মধ্যে জীবিত-মৃতের বা অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের মাঝে হারিয়ে ফেলবেন নিজেকে।

এভাবেই এ গল্পগ্রন্থে মোজাফ্ফর আমাদের অতীত ভ্রমণে নিয়ে গেছেন। দু’একটি বাদে বেশিরভাগ গল্পই লেখক বলেছেন। আমরা শ্রোতার ভূমিকায় ছিলাম। লেখকের ‘আমিত্ব’ সবক্ষেত্রে গল্পকে মজবুত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হয়। যদিও মোজাফ্ফর ‘আমার গল্পভাবনা’য় পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘গল্পের বিষয়বস্তু নির্বাচনে দুটো বিষয় মাথায় রাখি :

এক. আমার বর্তমানের কাছে দায়বদ্ধতা।
দুই. আমার ঐতিহ্যের কাছে দায়বদ্ধতা।’

তবে পাঠকের কাছেও লেখকের দায়বদ্ধতা আছে। তা ভুলে গেলে তো চলবে না। পাঠকের মাথার ওপর সবসময়ই যদি অস্পষ্ট একটি ছায়া ঘুরঘুর করতে থাকে; তাহলে পাঠক স্থির হবেন কোন ছায়াতলে?

তবে একথা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, মোজাফ্ফর হোসেন এ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য একজন গল্পকার। তিনি একইসঙ্গে ভাষা ও সময় সচেতন লেখক। গল্পের ফর্ম ও ন্যারেটিভ নিয়ে নিরীক্ষা করেন। গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পের মধ্যেই একধরনের জাদু আছে। তবে সে জাদু হয়তো সব পাঠকের বোধগম্য না-ও হতে পারে। তাহলে তা কী রকম জাদু! আসলে জাদুটা হলো, পাঠক যখন গল্পগুলো পড়ছেন; তখন যুগপৎভাবে একধরনের বিস্ময় ও ঘোরের মধ্যে পতিত হন। তার গল্পের চরিত্ররা অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যতে ঘুরে বেড়ায় অনায়াসে। এমনকি মৃতরাও ফিরে আসে কিংবা জীবিতরা চলে যায় মৃতের জগতে। পাঠক প্রায়ই ধন্দে পড়ে যাবেন, ঘোরের মধ্যে জীবিত-মৃতের বা অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের মাঝে হারিয়ে ফেলবেন নিজেকে।

তবে গল্প পাঠে লেখকের ধর্ম-দর্শন, চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণা পাঠকের সামনে স্পষ্ট হয় এভাবেই :
—মজ্জেল বাঁশিতে ফুঁ দিতে না পেরে দম আটকে—মারা গেছে!
—যার নাড়িই নেই, তার আবার নাড়ির টান!
—বাঁচে বাঁচে, গরীব মরে গেলিই বাঁচে।
—আল্লাহ আর ভগবান এক আকাশেই থাকেন, সমস্যা যত সব মাটিতেই!
—সব পরিবর্তন কি সুখের?
—কেউ আর আমার গল্পটি লিখলেন না!
—পৃথিবীর সব রং কে বা কারা যেন ধুয়ে দিয়েছে।
—মাছের বাজারে এসব কাব্যকথা কিন্তু বড্ড বেমানান।

তাই লেখক মোজাফ্ফর হোসেনও বিশ্বাস করেন, আমরা সবসময় একটি বানোয়াট বা আরোপিত পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছি। ফলে লেখকের গল্পেও তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বইয়ের চৌদ্দটি গল্পে লেখকের মুন্সিয়ানা নানা রকম। নানা ঢঙে জীবনের বাঁক বদলের কথা বলেছেন। যা পাঠ করলে আপনার মধ্যেও তৈরি হবে আরেকটি ভিন্ন জগত।

তার গল্পে জাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা, স্বপ্নবাস্তবতা, উত্তরাধুনিকতা খুঁজে পাওয়া যায়। তার গল্পে উঠে এসেছে দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের কথা। বেশিরভাগ গল্পই লেখকের দেখা জীবন থেকে নেওয়া। তার আশেপাশের বাস্তবিক চরিত্রগুলো তাকে প্রভাবিত করেছে। প্রতিটা গল্পেই লেখকের জীবন-পারিপার্শ্বিক জনজীবন কোনো না কোনোভাবে আছে। তার গল্প কখনো নির্মিতিপ্রধান, কখনোবা বাস্তবতাপ্রধান। এ ছাড়া গল্পের স্থান মেহেরপুর। তাই সংলাপে মেহেরপুরের ভাষা ব্যবহার করতে হয়েছে। যদিও মেহেরপুরের ভাষা শিল্প-সাহিত্যে সেভাবে আসেনি। অগ্রজ কথাশিল্পী রফিকুর রশীদ চেষ্টা করছেন। তাই লেখকের মনে হয়েছে, তারও চেষ্টা করা উচিত। বইটির পাঠকথনে অগ্রজ কথাশিল্পী জাহানারা নওশিন লিখেছেন,

‘মোজাফ্ফরের গল্পে নির্মাণ বলে কিছু নেই, সমস্ত বিষয়টি ভেঙেচুরে দিয়ে যা তিনি সৃষ্টি করে ওঠেন, তা যেন অস্থিহীন একটি অবয়ব। যেন ‘দেহহীন লাবণ্য বিলাস’। অবয়বটিও যেন বায়বীয় স্বপ্ন আর ঘন কুয়াশার ভেতর দিয়ে দেখা বাস্তবের প্রায় বিলীয়মান বাস্তব।’

তবে একথা সত্য যে, মোজাফ্ফরের গল্প সংকলনটি সেই অর্থে জনপ্রিয় হতে পারেনি। ফলে হয়ে গেল ক্ল্যাসিক। না-কি ক্ল্যাসিক ধারায় লিখেছেন বলেই জনপ্রিয় হলো না। তিনি যে স্টাইলে গল্প বলেছেন, এটা তার নিজস্ব রীতি হতে পারে। সেই রীতিতে আমপাঠকের হাত পর্যন্ত না পৌঁছানোটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে বোদ্ধামহলে ‘অতীত একটা ভিনদেশ’র খুব আলোচনা হয়েছে, এটা নিশ্চিত। এর বেশিরভাগ পাঠক সাহিত্যকর্মী বা সাহিত্য সমালোচক। বইটির বেশকয়েকটি আলোচনা পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তাতে বইটির গল্পের ধরন, লেখকের দর্শন, সমাজচেতনা ইত্যাদি আলোচিত হয়েছে। অনেকটা ‘গুরুর হাতের বেত’ বা ‘শিশুর হাতের খেলনা’র মতো।

বইটির আলোচকরা জাদুবাস্তবতা, পরাবাস্তবতা, স্বপ্নবাস্তবতা, ধর্ম, দর্শন, অবক্ষয়ের কথা বলেছেন। পাঠকের মনের গভীরের আবেগ-অনুভূতি তুলে আনতে পারেননি। যদিও নব্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ কবি ও কথাসাহিত্যিক চঞ্চল আশরাফের মতো বলতে হয়, ‘গল্প পড়ে কেউ কাঁদলে সেটি গল্পের যোগ্যতা হারাতে পারে।’ তবে এ কথা সত্য, এমন ধারার গল্প পড়ার মতো লোকও তো থাকতে হবে। আমি মোজাফ্ফরের গল্প ভীষণ পছন্দ করি। কেবল পাঠকের কথা চিন্তা করেই যতটুকু বিরোধী কথা বলতে হলো। ‘অতীত একটা ভিনদেশ’ ছড়িয়ে পড়ুক পাঠকের হাতে হাতে। তার আগে পাঠকের জেনে রাখা দরকার, বইটি ২০১৬ সালের বইমেলায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালে ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করে। সে বছরই বেহুলা বাংলা বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ বের করে। তখন বইয়ের প্রচ্ছদও পরিবর্তন করা হয়। সেবার প্রচ্ছদ করেন আমজাদ আকাশ। এরপর ২০২০ সালের বইমেলায় বইটি প্রকাশ করে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স। তখন প্রচ্ছদ করেন ধ্রুব এষ। সবশেষ সংস্করণে আরও চারটি গল্প যুক্ত হয়। যদিও আমি পড়েছি প্রথম সংস্করণ, তাই বাকি চারটি গল্পের সন্ধান আমি দিতে পারিনি। আশা করি, নব সংস্করণে পাঠক তা পেয়ে যাবেন।

অতীত একটা ভিনদেশ
(এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ পুরস্কারপ্রাপ্ত গল্পগ্রন্থ)
প্রকাশক : তৃতীয় মুদ্রণ, পাঞ্জেরী প্রথম সংস্করণ
প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ

সূত্র : এবং বই, সম্পাদনায় ফয়সাল আহমেদ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও কবি। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার উত্তর উড়ার চর গ্রামে তার জন্ম। তিনি বাংলা সাহিত্যে স্নাতকসহ প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর। পেশায় সংবাদকর্মী। বর্তমানে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল

জাগোনিউজ২৪.কমে ফিচার ইনচার্জ পদে কর্মরত।

তার গল্পের বই ‘সার্কাসসুন্দরী’, ‘নিশিসুন্দরী’ ও ‘সুন্দরী সমগ্র’। কবিতার বই ‘মিথিলার জন্য কাব্য’ ও ‘তুমি চাইলে’। সাক্ষাৎকার সংকলন ‘আমার আমি’ ও সচেতনতামূলক বই ‘অগ্নিকাণ্ড সতর্কতা ও নির্বাপণ কৌশল’। তার প্রথম উপন্যাস ‘মমতা’।

সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি সুনীল সাহিত্য পুরস্কার- ২০০৬, ২০১০ ও ২০১১, কালকিনি প্রেসক্লাব সম্মাননা, এসইএল লেখক সম্মাননা ২০১৬, লেখকবাড়ি পুরস্কার ২০১৭, রকমারি সংবাদ স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০১৮, এসবিএসপি লেখক সম্মাননা ২০১৮, আবুল মনসুর আহমদ প্রবন্ধ পুরস্কার ২০২০ লাভ করেন।

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *