আমার বাবা আমার যিশু-০৩

100 Views

Spread the love

একদিন আমার বাবা আমার দু মায়ের প্রতি ভীষণ ক্ষিপ্ত হলেন। কারণ আমি জানি না কিন্তু শুনলাম—বাবা বাড়ি ছেড়ে এবার যাবেন না বটে তবে আমাদের মা দুজনকে কীভাবে শায়েস্তা করতে হয়—সেটি তিনি ভালো করে বুঝিয়ে ছাড়বেন!

এবারের অশান্তির কারণ কি? কারণ হলো মায়েরা নাকি বাবাকে বলেছেন, ‘সরাটাজীবন রান্নাঘরে খাটতে খাটতে তাঁদের দিন শেষ হলো!’ এতবড় অভিযোগ? এবং মিথ্যা আভিযোগ? সুতরাং বাবা আমাদের ডেকে বললেন, ‘শোন, আমি আর তোমাদের মায়েদের রান্না করা খাবার মুখে তোলব না। এই প্রতিজ্ঞা করেছি!’ তখন সকাল দশটা। বাবার কথা আমরা চুপ করে শুনলাম। আমাদের এ ব্যাপারে বলার কিছু নেই। তবু আমাদের বড় বোন মুখ খুলে কিছু একটা বলতে যেতেই বাবা চোখ গরম করে বোনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘অ্যাই চোপ!’ তো আমরা সব চুপ করে গেলাম।

বাবা অড়হরের ডাল খুব ভালোবাসতেন। মনে হয় এটি ছিল বিহারি একটি পছন্দের ডাল।

বাবা বললেন, ‘আজ থেকে আমি এবং আমরা কেউ তোমাদের মায়েদের হাতের রান্না খাব না, ঠিক আছে?’ আমরা ভাইবোনেরা মাথা নেড়ে জানালাম যে ঠিক আছে। এরপর শুরু হলো সারাদিনের রিচ্যুয়াল। মায়েরা তো তাদের নিজের নিজের ঘরে গিয়ে আপনমনে কাজ করছেন। যেন বাবা কী বলছেন বা করছেন এ ব্যাপারে তাঁদের কোনও আগ্রহ নেই। আমাদের বাবা এবার চোখের সামনে কোদাল চালিয়ে উঠোনে গর্ত করলেন। চুলো তৈরী হলো। রাস্তা থেকে একজনকে ডেকে বাবা বাজার করতে পাঠালেন। দামী বাজার। খাসির মাংস, অড়হরের ডাল, বেগুন ভাজা। অনেক সদাই। বাবা অড়হরের ডাল খুব ভালোবাসতেন। মনে হয় এটি ছিল বিহারি একটি পছন্দের ডাল। আমরা অতটা ভালো না বাসলেও খেতে খেতে এক ধরনের টেস্ট তৈরী হয়েছিল। বাবা খোস্কা পোলাও খুব ভালোবাসতেন। এটিও ছিল বাবার একটি প্রিয় খাদ্য। বাবা কোপ্তা খুব ভালোবাসতেন। নারকেল দুধ দিয়ে আস্ত মুগের খিঁচুড়ি বাবা ভালোবাসতেন। আর বাবা যা ভালোবাসতেন আমরাও তা ভালোবাসতাম।

আজ যেহেতু বাবা নিজে রান্না করছেন, আমরা সেহেতু অতঃপর বাবার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকলাম। বাবা আজ উঠোনে চুলো খুঁড়ে ভাত ও মাংস রান্না করছেন। সিম্পিল খাওয়া। তার সঙ্গে ডাল ও বেগুন ভাজা। মায়েদের রান্নাঘরে রান্না করছেন না কেন? কারণ কোনওকিছু তিনি ব্যবহার করবেন না! তিনি নিজে চুলো খুঁড়ে উঠোনে রান্না করবেন এবং তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে একসঙ্গে খাবেন। মায়েদের এই খাবারে কোনও ভাগ নেই। তাহলে মায়েরা খাবেন কি? তারা কি খাবেন তাতে আমাদের বাবার কোনও মাথাব্যথা নেই। তারা নিজেরা উপার্জন করে খাক। আর বুঝুক কত ধানে কত চাল। বাড়িতে আরাম করে বসে থাকে তো, তাই তাদের বাইরের হালচাল সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। ফলে বাবার হাতে সেদিন রান্না শেষ হতে হতে সন্ধ্যে হয়ে এলো। তবু বাবার রান্না শেষ হয় না। আর যত দেরি হয়, ততই বাবার মেজাজ চড়ে যাচ্ছে। আমরা সেই সকাল থেকে অভুক্ত কিন্তু আমাদের মনে কোনও অভিযোগ নেই! বাবার কাছে কি বলা সম্ভব যে আমাদের খিদে লেগেছে? সকাল থেকে পেটে দানা পড়ে নি? না। বলা সম্ভব নয়। তাই আমরাও বাবার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণপণে চুলোয় ফুঁ দিচ্ছি যেন তাড়াতাড়ি করে রান্না শেষ হয়।

বড় হয়ে বুঝেছি—যখন বাবার হাতে পয়সা থাকত না সংসার চালাবার—তখুনি বুঝি তিনি বাড়ি ছেড়ে কোলকাতা বা কোথাও চলে যেতেন।

সন্ধ্যে ঘোর লেগে গেলে আমরা উঠোনে থালা নিয়ে খেতে বসলাম। বাবাও আমাদের সঙ্গে খেলেন এই কথা বলতে বলতে যে ‘এই রান্না আমাদের মায়েদের রান্নার চেয়ে শতগুণ ভালো হয়েছে!’ আমাদের কাছ থেকেও তাঁর মনের কথাটা বারবার করে বের করে নিলেন। আমাদের বাবার রান্না খুব ভালো হয়েছে। এর কাছে মায়েদের রান্নার কোনও তুলনাই হয় না! এরপর খাওয়া শেষ হলে বাবা আমাদের রেখে বাড়ি ছাড়লেন। উঠোনে ছত্রখান হয়ে পড়ে থাকল থালা-বাসন-হাড়িকুড়ি-হাতাচামচ। কলের পাড়ে জমা হলো গাদিগাদি পেঁয়াজ, রসুন, আদার ছিলকা। বাবা সেদিন রাতে আর বাড়ি ফিরলেন না।

বড় হওয়ার পর অনেকদিন ভেবেছি—বাবা যদি তাঁর স্ত্রীদের ওপরে রাগ করে তাঁদের হাতের রান্না করা ভাত আর খাবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করলেন, তাহলে তিনি একাই তো বাড়ির বাইরে গিয়ে খেয়ে আসতে পারতেন। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে রান্না করার দরকার তো ছিল না। তাহলে কি বাবা তাঁর সন্তানদের জন্যেও চিন্তা করতেন? তা না-হলে কেন তিনি আমাদের জন্যে নিজের হাতে রান্না করবেন? বাড়িতে বাজার খরচ দেবেন না। সুতরাং মায়েরা খেতে পারবেন না কিন্তু আমাদের তো খেতে হবে। তাই বাবা শুধু মায়েদের জন্যে শাস্তির বিধান করলেন। আবার যখন তিনি হঠাৎ করে বাজারের খরচ দিতেন না। বাইরে চলে যেতেন। দু-তিনদিন বাদে ফিরতেন। তখন তো আমরাও না খেয়ে থাকতাম। বড় হয়ে বুঝেছি—যখন বাবার হাতে পয়সা থাকত না সংসার চালাবার—তখুনি বুঝি তিনি বাড়ি ছেড়ে কোলকাতা বা কোথাও চলে যেতেন। যেন তিনি ঠিকই বুঝতেন মায়েরা যেভাবে হোক সংসার চালিয়ে নেবেন। মায়েদের গোপন বাঁশব্যাঙ্কের খবর কি বাবার অগোচর ছিল? মনে হয় না!

তাঁকে হারিয়ে বেভূল হয়ে আপনমনে যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি আর সর্বদাই তাঁকে মনে মনে বলছি, তুমি আমার সঙ্গে আছো তো?

আমার মায়ের ঘরে দুই মেয়ের পর যখন এক ছেলে হলো—আমার ছোট ভাই নয়ন, তখন বাবা কোলকাতা থেকে নয়নের জন্যে তিন চাকার একটি লাল সাইকেল কিনে নিয়ে এলেন। আমার বয়স তখন প্রায় ছয় আর নয়নের তিন। কোলকাতা ছিল আমার বাবার শহর। কিছু হলেই বাবা কোলকাতায় চলে যেতেন। এত যে সংসার ছেড়ে বাবা হঠাৎ হঠাৎ চলে যেতেন, সেটাও ছিল কোলকাতায় চলে যাওয়া। তারপর দু-তিনদিন বাদে আবার ফিরে আসা যশোরে। ফিরে আসার সময় কখনও খালি হাতে ফিরতেন না। সবসময় কিছু না কিছু হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। এখন যেন ভাবলে মনে হয়—আমার বাবা ছিলেন একজন অস্থির প্রকৃতির মানুষ। আমার বড়বাবাও তাই। শুধু ছোট চাচা ছিলেন একটু ঠান্ডা প্রকৃতির। তবু তাঁরও রাগ ছিল খুব। তিনি আমাদের মাকে এবং আমাদেরও সুনজরে দেখতেন না। সর্বদাই বিরক্তির ভাব প্রকাশ করতেন। আমরা তাই পারতপক্ষে ছোট চাচার কাছ ঘেঁষতাম না।

আমার মনে হয়, মানে অনেকদিন ধরেই মনে হয়েছে যে বাবার অস্থিরতার ভাগ কিছুটা হলেও আমি পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই আমি আমার পরিবেশের ব্যাপারে ছিলাম অসুখী। সর্বদাই মনে হতো এই পরিবেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাই। পরবর্তী জীবনে যখন আমার সবকিছুই হয়েছে—আপাতদৃষ্টিতে কোথাও কিছু বাকি নেই—তারপরও আমার কেন জানি বারবার মনে হয়েছে এখানে আর থাকব না। এখানে ভালো লাগে না। অন্য কোথাও যেতে হবে! এর ফলে প্রায় বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত আমি শুধু ছোটাছুটি করেই জীবন কাটালাম। আর আমার জীবন সঙ্গীটিকেও ঈশ্বর এমনভাবে তৈরী করে আমার জীবনে সেঁটে দিলেন যে আমার কোনও বায়নাতেই তাঁর না ছিল না। অন্য যে—কোনও স্বামী একটি থাবড়া দিয়ে বসিয়ে রাখতেন। সেখানে তিনি সর্বদাই ‘তোমার যা ইচ্ছে হয় কর, আমার কোনও আপত্তি নেই!’ শুধু মৃত্যুশয্যায় বারবার করে বলেছেন, ‘এবার আমরা কেউ কাউকে ছেড়ে কোত্থাও যাব না। আমরা সর্বক্ষণ একসঙ্গে থাকব।’ আর আমিও বলেছি, ‘হ্যাঁ—হ্যা—হ্যাঁ!’ তাঁর সে আশা আর পূরণ হলো না। আমি তাই তাঁকে হারিয়ে বেভূল হয়ে আপনমনে যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি আর সর্বদাই তাঁকে মনে মনে বলছি, তুমি আমার সঙ্গে আছো তো?

ঘোড়ার গাড়ির পেছনে সুন্দর একটা বসবার জায়গা ছিল। সেখানে গাড়ির কোচোয়ানের একজন হেলপার বসে থাকত। মনে হয় এই কোচোয়ানের কোনও হেলপার ছিল না। আমি তাই বসে পড়লাম।

তো আবার আমার বাবার কথা বলি। আমার ভাই নয়ন যখন তিন বছরের তখন বাবা তার জন্যে কোলকাতা থেকে একটা তিন চাকার লাল টকটকে রঙের সাইকেল কিনে আনলেন। সাইকেলটা দেখে আমার নিজেরই কত সখ হলো যে সাইকেলটাতে আমি চড়ে একবার ঘুরে বেড়াই কিন্তু ততদিনে আমি যে মেয়ে! আমার যে সাইকেল চালাতে নেই সেটি বেশ বুঝে গেছি। তবু নয়ন সাইকেল পাওয়াতে আমার খুশি আর ধরে না। বাবা যখন কোলকাতা থেকে সেদিন যশোর ফিরলেন তখন অনেকই রাত। বনগাঁ থেকে ঘোড়ার গাড়ি করে যশোরে ফিরতেন বাবা। তাই রাত হয়ে যেত। সেদিন যখন ফিরলেন তখন অনেক রাত। বাবা বাড়ি ফিরতে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি জুলজুল চোখে তাকিয়ে দেখি—বাবার হাতে মস্ত বড় একটা লাল মতো কি যেন? বাবা বললেন, বুলুর মা, এই যে নয়নের জন্যে সাইকেল কিনে এনেছি। সাইকেল দেখে তো আমি অবাক। নয়নের জন্যে সাইকেল। আমার জন্যে নয়। কিন্তু তাতেই খুশিতে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার জোগাড়। নয়ন তো তখন ঘুমিয়ে আছে। আমি জেগে আছি। আমি মেঝেয় বিছানা পেতে যেখানে ঘুমোই বা আমার মা ঘুমোবার ব্যবস্থা করে দেন—সেখানে খাটের নিচটা আমার চোখের সামনে পরে—সেই খাটের নিচেই রাতের মতো সাইকেলের আশ্রয় হলো। তার শরীর থেকে তখনও বেলে রঙের কাগজের মোড়ক খোলা হয় নি। কিছু কিছু কাগজ টানাটানিতে ছিঁড়ে গেছে আর ফাঁক দিয়ে অতীব সুন্দর সেই কালচে লাল রঙ।

আমি একটুখানি চোখ বুজি আবার অন্ধকারে চোখ খুলতেই আমার চোখের সামনে ধাতব সেই পদার্থ অর্থাৎ সাইকেল। সমস্ত শরীরে আমার শিহরণ বয়ে যেতে লাগল। রাতটা যে কীভাবে পার করলাম খেয়াল নেই। পরদিন ভোর হতে নয়নকে সেই সাইকেলে নড়বড়ে করে বসিয়ে আমি চুড়িপট্ট্রির রাস্তা দিয়ে সগৌরবে সেই সাইকেল টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম। নয়ন শুধু স্থবির হয়ে বসে থাকল। সেও খুশি কিন্তু তার খুশির মাত্রা আমার চেয়ে অনেক কম। সাইকেল চলছে আরি আমি মাথা উঁচু করে মানুষজনের মুখ দেখছি। আশ্চর্যের ব্যাপার কেউ আমাদের কিছু বলছে না! কোনও প্রশংসা নয়। কোনও কৌতূহল নয়। এমনকি সাইকেলটাকে যে একটু চালিয়ে দেখবে তারও কোনও উদ্যোগ নেই। শুধু স্বাভাবিক চোখে লোকেরা কেউ কেউ আমাদের দিকে অন্যমনস্ক দৃষ্টি ফেলতে ফেলতে চলে যাচ্ছে। মানুষজনের ব্যবহারে আমি মনে মনে খুবই ক্ষুণ্ন এবং বিরক্ত হলাম।

একবার আমি বাবার পেছন পেছন কোলকাতায় গেলাম। বাবা যশোর থেকে ঘোড়ারগাড়ি করে বনগাঁ যাচ্ছেন। তারপর সেখান থেকে ট্রেনে কোলকাতা। ওখানে তাঁর চামড়ার ব্যবসা আছে। গোডাউন আছে। সেখান থেকে চামড়া আরও অনেক দূর দেশে যাবে। এজন্যে বাবা মাঝে মাঝেই কোলকাতা যেতেন। কিন্তু আমি অতসব বুঝি না। আমি বাবার সাথে যাব। বাবা যখন রাতের বেলা মাকে বললেন যে তিনি পরদিন সকালে কোলকাতা যাবেন। আমি সে-কথা শুনে তক্কে তক্কে থাকলাম। বাবা যখন তার ঘোড়ার গাড়ির কোচোয়ান নিয়ে চৌরাস্তার দিকে রওনা হয়েছেন, আমি সেই সময় ঘোড়ার গাড়ির পেছনে চুপ করে বসে পড়লাম। ঘোড়ার গাড়ির পেছনে সুন্দর একটা বসবার জায়গা ছিল। সেখানে গাড়ির কোচোয়ানের একজন হেলপার বসে থাকত। মনে হয় এই কোচোয়ানের কোনও হেলপার ছিল না। আমি তাই বসে পড়লাম। বাবা তো গাড়ির ভেতরে বসে আছেন। কোচোয়ান ঘোড়ার পেছনে। আর আমি গাড়ির পেছনে পাদানির ওপর। গাড়ি চলল আপনমনে। আমিও চললাম। গাড়ি যখন বেনাপোল যাবার মাঝপথে—কোচোয়ানের কেমন সন্দেহ হলো। সে গাড়ি থামিয়ে পেছনে এসে আমাকে দেখে হতবাক।

গুঁইসাপের চামড়া আমি যশোরে দেখে এসেছিলাম। জ্যান্ত গুঁইসাপও বাবা আমাদের দেখিয়েছিলেন

তারপর চিৎকার করে সে বাবাকে বলল, ‘এ মেজেবাবু, আপকা লেড়কি তো চুপচুপকে এত্না দূর চলা আয়া!’ বাবাও আমাকে দেখে অবাক। আমি বললাম, ‘বাবা, আমি তোমার সাথে কোলকাতা যাব।’ বাবা আর কি করবেন। বললেন, ‘তো চল। ওখানে মা ছাড়া আমার সঙ্গে একা একা থাকতে পারবি?’ আমি বললাম, ‘পারব।’ বাবা আমাকে নিয়ে বেনাপোল পার হয়ে বনগাঁ পৌঁছে ট্রেনে চাপিয়ে কোলকাতায় নিয়ে গেলেন। চৌরঙ্গী বা ওরকম কোনও জায়গায় একটা চামড়ার গোডাউনের ওপরতলায় বাসাবাড়িতে ওঠলেন। সে বাসা মনে হয় খালি থাকত। আমি আর বাবা ছাড়া সেখানে আর কেউ ছিল না। খুব গরম পড়েছিল। বাবা আর আমি রাতের বেলা ছাদে বিছানা করে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে থাকলাম। সকালবেলা বাবা ঘুম থেকে উঠে আমাকে নিয়ে নাস্তা করে বললেন, ‘আমি এখন একটা কাজে বেরোচ্ছি। তুই দোতলায় বসে থাক। খবরদার নিচে নামবি নে। আমি দুপুরবেলা কাজ সেরে ফিরে এসে তোকে নিয়ে হোটেলে খেতে যাবো। ঠিক আছে?’ বাবার কথায় মাথা নেড়ে আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, বাবা।’ বাবা বাইরে বেরোবার আগে বারবার করে বলে গেলেন, ‘খবরদার বাইরে বেরুবি নে। নিচে নামবি নে। ঠিক আছে?’ আমি আবারও মাথা নেড়ে বাবাকে সায় দিলাম।

একটুপরে বাবা আমাকে দোতলায় রেখে নিচে চলে গেলেন। তারপর বাইরে বেরিয়ে গেলেন। আমিও চুপ করে বসে ঘরের জানালা দিয়ে বাইরের রাস্তা তাকিয়ে দেখতে লাগলাম কিন্তু তা আর কতক্ষণ? একটু পরে অস্থিরতা আমার মনে আঁচড় কাটতে লাগল। কিছুক্ষণ দোতলার ঘরে হাঁটাহাঁটি করবার পর আমি দোতলার সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামতে শুরু করলাম। সিঁড়ির নিচে নেমে হাতের বাঁ-দিকে একটা খোলা দরজার দিকে আমার দৃষ্টি গেল। আমি তো অবাক। দেখি দুজন মানুষ মাটিতে উঁবু হয়ে বসে বসে ছাগলের চামড়ায় লবণ মাখাচ্ছে। আর তাদের মাথার পেছনে পাহাড় সমান চামড়া ঢিবি করে রাখা আছে। প্রত্যেকটা ছাগলের চামড়া উল্টো করে ভাঁজ করা। তাদের শরীর থেকে নীলাভ একটা আলো বেরোচ্ছে। আর সেই চামড়া তারা দুহাতে ধরে টান টান করে একটা মাটির পাত্র থেকে খাবলা খাবলা লবণ নিয়ে তাদের গায়ে মাখাচ্ছে। খুব দ্রুততার সঙ্গে মাখাচ্ছে। আমার চোখের সামনে কয়েক মিনিটের ভেতরেই যেন তারা সাত-আটটা চামড়ায় লবণ মাখিয়ে ফেলল।

দুঃখের কথা, আমার বোন ও মা আমার কথা বিশ্বাস করলেন এবং আমাকে একটাও জিলাপি আর দিলেন না।

আমাকে দরজার সামনে দেখে তাদের দুজন একবার মাত্র চোখ তুলে তাকাল। তারপর কিছু না বলে আবার আপনমনে কাজ করতে লাগল। ছাগলের চামড়া ছাড়া গুঁইসাপের চামড়াও ছিল। গুঁইসাপ দেখে আমার শরীর থিরথির করে ওঠল। তবে আমি ভয় পেলাম না। যেহেতু গুঁইসাপের চামড়া আমি যশোরে দেখে এসেছিলাম। জ্যান্ত গুঁইসাপও বাবা আমাদের দেখিয়েছিলেন।

লোকদুটো সেই একবার মাত্র আমার দিকে তাকাল তারপর থেকে আপনমনে কাজ করে চলল। এমনকি নিজেদের মধ্যে কথাবার্তাও বলল না। কিছুক্ষণ নীরবে তাদের কাজ দেখে আমি আবার পায়ে পায়ে উপরে উঠে গেলাম। দুপুরবেলা বাবা বাসায় ফিরলে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘নিচে গিয়েছিলি?’ বকা খাওয়ার ভয়ে অম্লান মুখে আমি অস্বীকার করলাম। বাবা আমার জন্যে নতুন জামাকাপড় কিনে এনেছিলেন। সেই কাপড় পরে বাবার সঙ্গে বাইরে গিয়ে আমি হোটেলে ভাত খেলাম। এরপর আর কিছু মনে নেই। শুধু মনে আছে, পরদিন বাবা আমার হাতে একগাদা বড় সাইজের জিলাপি দিয়ে—নতুন জামাকাপড় পরিয়ে—একজনের সঙ্গে আমাকে আবার যশোরে পাঠিয়ে দিলেন। আমার মোটেই ফিরে আসার ইচ্ছে ছিল না।

আমার একাও লাগছিল না। আমি দিব্যি সকাল-দুপুর ছাগলের আর গুঁইসাপের চামড়ায় লবণ দেওয়া দেখতে দেখতে সময় কাটিয়ে দিতে পারতাম! কাচা চামড়ার গন্ধ আমার নাকে বেশ সহ্য হয়ে গিয়েছিল। বরং বাবার সঙ্গই আমার বেশি ভালো লাগছিল কিন্তু বাবাকে সে কথা বলতে সাহস হলো না। বাড়িতে ফিরে এলাম হাতে একগাদা জিলাপি আর নতুন জামাকাপড় নিয়ে। খুব খুশি। কারণ আমার বুলু বু কোলকাতা যেতে পারে নি কিন্তু আমি গিয়েছি। আরও বাবার সঙ্গে গিয়েছি। বুলু বু ছেলেবেলা থেকে নিরীহ টাইপের মানুষ। আমার অন্য দুটি ভাইয়ের মতো। আমি বাবার সঙ্গে কোলকাতা গিয়েছি বলে তার হিংসে হলো না বরং সে জিলাপি দেখে খুশি হয়ে মাকে বলল, ‘মা, দেখেছ, বাবা কত বড় বড় জিলাপি কিনে পাঠিয়েছে!’ তারপর একটা মচমচে জিলাপিতে কামড় দিয়ে বলল, ‘তুই জিলাপি খা।’ কিন্তু আমার বয়ে আনা জিলাপি আমি খাব কেন? আমার একটা প্রেসটিজ আছে না? আমি নাক সিঁটকে বললাম, ‘না, আমি খাব না। কোলকাতায় গিয়ে সারাদিন শুধু তো জিলাপি খেয়েই কাটালাম!’ দুঃখের কথা, আমার বোন ও মা আমার কথা বিশ্বাস করলেন এবং আমাকে একটাও জিলাপি আর দিলেন না। নিজেরা খেলেন এবং যত্ন করে তুলে রাখলেন পরে খাবেন বলে।


আনোয়ারা সৈয়দ হক

১৯৪০ সালের ৫ নভেম্বর যশোর জেলার চুড়িপট্টি গ্রামে এক মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা গোলাম রফিকউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী ও মা আছিয়া খাতুন একজন গৃহিণী। তার বাবা খুবই ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তাকে ছোটবেলায় কঠিন পর্দা ও অন্যান্য ইসলামী শরিয়ত মেনে চলতে হতো। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে যশোরে।

তার পাঠদানের হাতেখড়ি হয় মায়ের কাছে। চুড়িপট্টির মোহনগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। মধুসূদন তারাপ্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক ও ১৯৫৮ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্কুল ও কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। কলেজ গ্রন্থাগারে প্রচুর বই থাকলেও তিনি তা অধ্যয়নের সুযোগ পান নি। সে সময়ে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবই পড়ারই সুযোগ পেত। তাই মাঝে মাঝে উপন্যাস, ম্যাগাজিন ও অন্যান্য সাহিত্য পেলে তারা নিজেদের ধন্য মনে করত। ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি ইংরেজি সাহিত্যে পড়তে চাইলেও তার বাবার আগ্রহে তাকে মেডিকেলে ভর্তি হতে হয়। ১৯৬৫ সালে তিনি এমবিবিএস পাস করেন। পরে ১৯৭৩ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে যান। তিনি সেখান থেকে ১৯৮২ সালে মনোবিজ্ঞানে এমআরসি ডিগ্রী লাভ করে দেশে ফিরে আসেন।

এমবিবিএস পাস করার পর তিনি তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনী মেডিকেল কোরে লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালে মক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সম্পূর্ন নয় মাস তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ঢাকা এয়ারবেসের মেডিক্যাল সেন্টারে তিনি চিকিৎসা করেছেন সৈনিকদের এবং তাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের। ১৯৭৩ সালে তিনি বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে ইস্তেফা দিয়ে লন্ডন চলে যান এবং সেখানে কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লন্ডন থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে দেশে এসে ১৯৮৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে মনোরোগ বিভাগে সহকারী প্রভাষক হিসাবে যোগ দেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি জাতীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন ঢাকার মানসিক স্বাস্থ ইন্সটিটিউটের পরিচালক ও প্রভাষক। ১৯৯৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর নেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সাল থেকে তিনি ঢাকার বারডেম হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগের প্রভাষক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন।

তার প্রথম ছোটগল্প পরিবর্তন ১৯৫৪ সালে দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত দৈনিক ইত্তেফাকের কচি কাঁচার আসরে লিখতেন। মাইকেল মধুসূদন কলেজে পড়াকালীন দৈনিক আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী ও গুলিস্তা পত্রিকায় তার লেখা গল্প, কবিতা প্রকাশিত হতো। গুলিস্তা পত্রিকায় লিখে তিনি পুরষ্কৃতও হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন লেখালেখির পাশাপাশি তিনি কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এই সময়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম শ্রেণীর পত্র-পত্রিকা ও বিভিন্ন মেডিকেল জার্নালে তার লেখা ছাপা হতো। তার প্রথম উপন্যাস ১৯৬৮ সালে সচিত্র সন্ধানীতে প্রকাশিত হয়। তার সেই প্রেম সেই সময় ও বাজিকর উপন্যাসে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা বর্ণিত হয়েছে। নরক ও ফুলের কাহিনী উপন্যাসে লিখেছেন তার ছেলেবেলার কথা। বাড়ি ও বণিতা উপন্যাসে চিত্রায়িত হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের সামাজিক সমস্যা। উপন্যাস ছাড়া তিনি শিশুদের জন্য সাহিত্য রচনা করেছেন। ১৯৭৭ সালে ছানার নানার বাড়ি, বাবার সাথে ছানা (১৯৮৬), ছানা এবং মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮৭), ১৯৯০ সালে তৃপ্তি, আবেদ হোসেনের জোৎস্না দেখা, ১৯৯২ সালে হাতছানি, আগুনের চমক এবং মুক্তিযোদ্ধার মা নামক শিশুতোষ গল্প ও উপন্যাসগুলি প্রকাশিত হয়।

তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের দিকে সৈয়দ শামসুল হকের অনুপম দিন, শীত বিকেল, সম্রাটের ছবি, এক মহিলার ছবি, দেয়ালের দেশ পড়ে তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করেন। তিন পয়সার জোসনা গল্পটি পড়ার পর তিনি সৈয়দ হককে চিঠি লিখেন। সৈয়দ হক এক মাস পর সেই চিঠির জবাব দেন। এরপর প্রতিনিয়তই তারা চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে থাকেন। একদিন সৈয়দ হক তাকে ঢাকার গুলিস্তান সিনেমা হলের চিন-চাও রেস্তোরায় দেখা করতে বলেন। প্রথম সাক্ষাতে সৈয়দ হক তাকে উদ্দেশ্য করে একটি কবিতা লিখেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন তারা ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ১৯৬৫ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি সৈয়দ হকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সৈয়দ হক ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফুসফুসের কর্কটরোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এই দম্পতির দুই সন্তান। মেয়ে বিদিতা সৈয়দ হক একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিক্ষক। ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক একজন আইটি বিশেষজ্ঞ, গল্পকার ও গীতিকার। তিনি যুক্তরাজ্যের রিচমন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এমবিএ পাস করেন।

ছোটগল্প
• পরিবর্তন (১৯৫৪)
• পারুলীর উড্ডয়ন
• হেলাল যাচ্চিল রেশমার সাথে দেখা করতে
• গলে যাচ্ছে ঝুলন্ত পদক
• অন্ধকারে যে দরোজা
• মানসিক সমস্যার গল্প
• শূন্যতার সাথে নৃত্য
• গুজরিপঞ্জম
• গ্রাম গঞ্জের গভীরে
• পূর্ণিমায় নখের আঁচড়
• সূর্য ওঠার গল্প

উপন্যাস

• তৃষিতা (১৯৭৬)
• সোনার হরিণ (১৯৮৩)
• সেই প্রেম সেই সময়
• বাজিকর
• জলনুড়ি
• তারাবাজি
• হাতছানি
• উদয় মিনাকে চায়
• অস্থিরতার কাল, ভালোবাসার সময়
• ভালোবাসার লাল পিঁপড়ে
• নরক ও ফুলের কাহিনী
• বাড়ি ও বনিতা
• গা শিরশির (২০১১)
• কার্নিশে ঝুলন্ত গোলাপ
• সেই ভাষণটি শোনার পর
• নিঃশব্দতার ভাঙচুর
• তাম্রচূড়ের লড়াই
• সেইসব দিন
• যোজন দূরের স্বজনেরা
• ঘুম
• খাদ
• আহত জীবন
• আকাশ ভরা
• দুই রমণী
• নারী : বিদ্রোহী
• সবুজ পশমি চাদর
• ব্যবহ্নতা
• আয়নার বন্দী
• নখ
• সন্দেহ
• ঘুমন্ত খেলোয়াড়
• রূপালী স্রোত
• চেমনআরার বাড়ি

কাব্যগ্রন্থ

• কিছু কি পুড়ে যাচ্ছে কোথাও
• তুমি আগে যাবে, না আমি
• স্বপ্নের ভেতর
• তুমি এক অলৌকিক বাড়িঅলা
• কাল খুব কষ্টে ছিলাম
• আমার শয্যায় এক বালিশ-সতীন

প্রবন্ধ
• নারীর কিছু কথা আছে
• কিশোর-কিশোরীর মন ও তার সমস্যা
• যেমন আমাদের জীবন
• ক্ষুব্ধ সংলাপ (২০১১)
• মেয়ে হয়েছি বেশ করেছি (২০১২)
• তোমার কথা
• পিকাসোর নারীরা

শিশুসাহিত্য
• ছানার নানার বাড়ি (১৯৭৭)
• বাবার সাথে ছানা (১৯৮৬)
• ছানা এবং মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮৭)
• পথের মানুষ ছানা
• একজন মুক্তিযোদ্ধার ছেলে
• আমাদের মুক্তিযোদ্ধা দাদাভাই
• মন্টির বাবা
• তোমাদের জন্য এগারোটি
• উল্টো পায়ের ভূত
• আমি ম্যাও ভয় পাই
• আমি বাবাকে ভালোবাসি
• হানাদার বাহিনী জব্দ
• মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ছড়া
• ছোটখেলের বীর
• যেমন আমাদের জীবন
• সর্পরাজের যাদু
• আমার মা সবচেয়ে ভালো (২০০৮)
• তুমি এখন বড় হচ্ছো
• টুটুলের মা-গাছ
• উদাসী বালক
• তপনের মুক্তিযুদ্ধ
• কাঠের পা
• আগুনের চমক
• দশ রঙের ছড়া
• মুক্তিযুদ্ধের পাঁচটি উপন্যাস

অনুবাদ

• ল্যু সালোমে : সাহিত্যভুবনের অগ্নিশিখা (২০১২)

স্মৃতিকথা

• অবরুদ্ধ

ভ্রমণকাহিনী

• উড়ে যাই দূরে যাই

পুরস্কার ও সম্মাননা

• ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক-২০১৯
• উপন্যাস শাখায় নৃ প্রকাশনী থেকে ছানা ও নানুজান-এর জন্য পাঞ্জেরী ছোটকাকু আনন্দ আলো শিশুসাহিত্য পুরস্কার-২০১৯
• উপন্যাসে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১০
• কবীর চৌধুরী শিশুসাহিত্য পুরস্কার-২০০৭
• ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার-২০০৬
• অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার
• মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার
• শিশু একাডেমি পুরস্কার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *