একমাত্র মুচিই জানেন সমূহ জুতার উজ্জ্বল বেদনা

306 Views

Spread the love

শূন্য

যোদ্ধা বাবা যে—কোনো মৃত হাড়ের হাঁচড়ে ছিঁড়ে যাওয়া জুতার কান্নাসমেত কোনো একদিন এসেছিলেন কোনো এক মিশরীয় মুচির কাছে। আর মুচি বাবার চোখের আগুন মেপেই বলেছিলেন,

‘এ-কান্না জুতার না, না তোমারও;
অন্য এক পৃথিবীর—এ অন্য কারো!’

‘হতে পারে সে তোমার মুছে যাওয়া রোদের—অথবা প্রাক্তন প্রেমিকার—অথবা কোনো এক প্রত্যাখ্যাত ভ্রুণের—অথবা তোমার ভেতর লুকিয়ে থাকা কোনো এক তুমির—যাকে কখনো আয়না দেখাওনি—যাকে পেশ করোনি সদয়বান সকালের সূর্যালোকের পাঁজরে!’

সেদিন থেকেই বাবা পৃথিবীর যাবতীয় জুতাকে প্রত্যাখ্যান করেন—স্বনাম থেকে সৈনিক পদবী ছেঁটে মুচিকে প্রেজেন্ট করেন। আর সেদিন থেকেই মুচিও একজন যোদ্ধা, এবং সেদিন থেকেই সমস্ত মৃতরা নগ্ন পায়ে হাঁটতে হাঁটতে হারান নরকঋতুতে…

 

প্রথম

একমাত্র মুচিই বোঝেন সমূহ জুতার ভাষা। যে—কোনো ক্রীতদাসের করুণ চামড়া, ভাঙা আস্তাবলের নির্বাসিত অন্ধ অশ্বের মরচে পড়া তন্তু; আর—আর সাপ ও ময়ূরের লড়াই বেষ্টিত প্রাসাদ থেকে প্রাচীন শোকের ঝমর তার আঙুলবিদ্যায় হয়ে উঠছে একেকটি উজ্জ্বল জুতা!

হ্যাঁ, একমাত্র মুচিই জানেন সমূহ জুতার উজ্জ্বল বেদনা…

 

দ্বিতীয়

‘যুদ্ধও বিজ্ঞান’—এই অভিজ্ঞায় অভিযোজিত হয়েছিলেন মুচিরও সন্তান—যার অন্তিম নিঃশ্বাস থেকে ঝরেছিল রক্তজবার স্ফূরণ! যখনই তার আঙুলে একেকটি উজ্জ্বল জুতা হেসে ওঠে, তখনই তার সন্তানের কথা মনে পড়ে! তবু রজনীগন্ধা—শূন্য রাষ্ট্রের জুতার অর্ডার গ্রহণ করেন। তবু তিনি কালের পর কাল অনিদ্রার গান গাইতে গাইতে তৈরি করেন লাখ লাখ জুতা—সরবারহ করেন দুর্গে-দুর্গে।

আর তিনি এও জানেন যে, যে—কোনো যুদ্ধহাওয়ায়—উড়ে যেতে পারে—তিনিসমেত এই ছোট্ট জুতার কারখানাও! অথচ তার জুতা পড়ে থাকে আমাদের জুতার নিচে!


রেজাউল ইসলাম হাসু

জন্ম ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৭; রংপুর।
শিক্ষা : হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা।
পেশা : চাকরি [একটি বেসরকারি সংস্থায় উন্নয়ন-কর্মী হিসেবে।]
প্রকাশিত বই—
ওকাবোকা তেলাপোকা [ শিশুতোষ, ২০১৬]
এলিয়েনের দেশ পেরিয়ে [শিশুতোষ, ২০১৭]
সম্পাদনা : www.belabhumi.com [ বাংলা ভাষার সৃজনে অনলাইন সাহিত্যপত্রিকা ]
ই-মেইল : rejaulislamhashu1987@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *