ওষুধবিক্রেতা জানে না মেঘেদের প্রকৃত বানান

2128 Views

Spread the love

নৈশসঙ্গী

উৎসর্গ  : মাহদী আনাম, দুখাই রাজ, উদয়ন রাজীব


 

আলোগুলো লাল আর নীল
—টলমল করে

 

চারটে লোকের ভারে কেঁপে ওঠে
ইঞ্জিনের ঘোড়া।
টগবগিয়ে
কেঁপে কেঁপে ওঠে সমূহ পথের দিশা…
নেমে যাই

 

এই রাস্তা চলে গেছে
অধিকতর নিঃসঙ্গতার দিকে।
পুরনো শহরে বয়সী শামুক, হেঁটে যায়
অক্ষয়দাস লেন পেরিয়ে—

 

পকেটে মুদ্রা নাচে।
গলির মুখে নাচে পুলিশের গাড়ি।

 

বেদনাহত কোকের বোতল ছুঁয়ে
নৈশ বন্ধুর সাথে ট্রাফিক পেরিয়ে হাঁটি
অদেখা প্রতিবেশিনীর নিঃশ্বাস কাঁধে
টের পাই, আমরা তখন মেঘের ছায়ায়
অন্ধকার, বৃষ্টিহীন গ্র্যান্ড এরিয়ায়!

 


শোকাবহ


 

পবিত্র পাখিদের অলংকার নিয়ে, আমাকে মর্ত্যে রেখে
কেউ কেউ উড়ে যায়; আমি তার ফেলে যাওয়া ধূলি
জমিয়ে রাখি। এত যে দক্ষ হলাম কাজে,
মৃত্যুকে বাঁচিয়ে রাখি জীবনের মাঝে।

 

মোহর জমিয়ে রাখি; শোকার্ত শুকনো পাতা। স্মৃতিচিহ্ন
ধুয়ে ফেলে জলে কে যায় ওদিকেনৈঃশব্দ্যে শীতল
হাওয়া-বাতাস ভেদ ক’রে আদিগন্ত পথে,
কে যাচ্ছে ওই দ্যাখো তার মৃদু ধ্বনি শোনা যায়।
যেন কেউ হাঁটছে ওইদিকে;
অন্ধকার বগলে পুরে যেন, কেউ যাচ্ছে কোনোদিকে…

 


নির্বাসনের বনে


 

গাছটা অসুস্থ; ওকে ডাক্তার দেখাবো। হাতে অনেক কাজ এখন। তোমার কাছে ফিরে নদীমাতৃক হবো। সুবাসিত পাতাবাহারের কাছে কয়েকটা আকাশ জমা আছে; রাত গভীর হলে সেই গল্পটা শুনতে হবে আবার। কেন যে আসে উদগ্র শুক্রবার; সমস্ত্র প্ল্যান ভেস্তে যায় আমার; কোনোকিছু ঠিক থাকে না! পঠিত গানের নাম ধরে ডাকি তবু কোত্থেকে উঠে আসে সব ব্যর্থ কবিতামালা। যে অসহ্য ওষুধবিক্রেতা জানে না মেঘেদের প্রকৃত বানান, তাকেও তুমুল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। এদিকে আমি একটা খসে পড়া নক্ষত্র পকেটে জমা রেখেছি; বৃষ্টি ভীষণ চিন্তায় ফেলে দিলো!

 


 

 

কবি

সাম্য রাইয়ানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুড়িগ্রামে।

২০০৬ থেকে সম্পাদনা করছেন লিটলম্যাগ ‘বিন্দু’। এর আগে প্রকাশিত হয় ‘বিগত রাইফেলের প্রতি সমবেদনা’ (২০১৫), ‘মার্কস যদি জানতেন’ (২০১৮), ‘হলুদ পাহাড়’ (২০১৯) ও ‘চোখের ভেতরে হামিং বার্ড’ (২০২০)। এগুলো সব কবিতার বই। এর বাইরে দুটি গদ্যের বই আছে তার। ‘সুবিমল মিশ্র প্রসঙ্গে কতিপয় নোট’ (২০১৪), ‘লোকাল ট্রেনের জার্নাল’ (২০২১)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *