খুরের আওয়াজ ফেলে এসেছে কোথাও

190 Views

Spread the love

যে—কোনো বোধ

একটি শালগম গাছ বেয়ে উঠছে ফড়িং
একটি সবুজ পাতার কাছে ঝুঁকে পড়েছে মেঘেরা এসে—

সময়টা উন্মাদের হাসিতে পরিপূর্ণ, উদ্যত হাজারো হাওয়ার গায়ে
লেগে আছে মানুষের আর্তচিৎকার!

ডাংগুলির চারা এসে পড়লে সে হাওয়া চৌচির হয়;

আড়াই চাল পিছিয়ে পড়েছে ঘোড়ার খুর, মনে হয়
খুরের আওয়াজ ফেলে এসেছে কোথাও, ফেলে এসেছে বিস্ময়!

রাজধানীতে লাইভে এসে
সংসদ ভাসিয়ে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে আজ—
অথচ একটি ফড়িঙ—ঝড় থেকে গা বাঁচাতে
ফিরে আসছে গাছে, উন্মাদ চারদিক থেকে
মানুষের যে—কোনো বোধ বলিকাঠে ঠেকাচ্ছে গর্দান!

ভরা বর্ষার দেশে
(প্রিয় অগ্রজ জিললুর রহমান, কবি ভাজনেষু)

বলতে ভুলে গেছি আমারও একটা ঈশ্বর দরকার, এই দেশে;

যখন সবক’টা ফুল ঝরে ন্যাড়া দেখাবে বাগানগুলি
আমি যেন হাত পেতে চেয়ে নিতে পারি সুরভি!

যখন কাগজের বাঘ এসে দরোজায় ফেলে যাবে
গোলপাতার ফসিল, আমি যেন তার জন্য হুংকার চাইতে পারি যেচে!

যখন আমার মেরুদণ্ডকে দুই ধাপ
নামিয়ে দিতে
নাড়িয়ে দিতে
উদ্যত হবে কামার ছাত্রেরা
তখন যেন হাঁটুর বদলে চাকা
পায়ের বদলে চাইতে পারি ক্রাচ!

এই ভরা বর্ষার দেশে
আমার একটা ঈশ্বর দরকার, যে—কোনো কুমারী নদীর
বালু দখল হওয়া দেখতে দেখতে আমি যেন আগুনে ঝাঁপ দিতে পারি!

মাঝিদের লাইটার
(জুয়েল মোস্তাফিজ, কবি ভাজনেষু)

আমাদের ছায়ার কাছে এসে দম নেয় মায়ের তরুণীবেলা, হাত-খুলে ডাকে
বাবার গল্পেরা, কাছে!

দৃশ্যকল্প থেকে অল্প হাওয়া আসে;
যেদিকে বৃষ্টি হচ্ছে, সেদিক থেকেই হেঁটে আসে
স্মৃতির সুনাম করে থৈ নাই!

খাড়িতে একাই দপ করে জ্বলে মাঝিদের লাইটার
এত রাতে সমুদ্র আহ্বান করে নাকি প্রীতি?
যাকে পায় স্বপ্নের পত্রালি, যার দস্তানা রঙিন লাগে
শেষের টেবিল থেকে অথির তর্জনি দৃশ্যত আসে, গ্লাসে টোকা দেয়;
উপকূলে, শেষতম পানশালায়!

ছায়া ম্রিয়মান, চট করে বাজ পড়ে;
এইভাবে গল্পের আকার নেয় আমাদের অভিজ্ঞান;

কাঁপুনি জড়িয়ে একা
ডিমলাইট জ্বালিয়ে একা
বসে আছে যে-বা স্নায়ুঘর নিঝঝুম করে, আজ তার
শীতশীত বোধহয়?

বোধ হতে এসে সমস্ত ছায়া—এইভাবে লীন হয় কোনোদিন!
স্বভাবে দ্বিধারা থাকে রঙহীন, কারুকাজহীন।

কোঁচবক

আমিও জানি না পাশা খেলা, হারু জানে না, মা জানে না;
সামনে দ্রুত চলে যাওয়া স্কুল রাস্তাটিও, জানে না কিছু এর—
তবু তার ক্রীড়নক হয়ে উল্টেপাল্টে যায় ভুবন জলধি মনের!

মন তবে ভ্রান্তির আকর নাকি সালফার ভেজানো ধোঁয়া?

যে—কোনো স্টেশনে পৌঁছাতে আমার বিলম্ব হয়, যে—কোনো বাঁকে দাঁড়ালে
আন্ধার লাগে চোখে৷

খোলা মাঠ বনের পাশে শুয়ে
লোনা পানির নদী-বিভূঁই ধুয়ে
হেলান দিচ্ছে মনের খাজে কাটা
হাতে গ্লোভস পড়ে দুইজনে শোকগাঁথা—

যে—কোনো সুন্দরের কাছে বিলম্ব করে পৌঁছানো
নিজেকে ভারাতুর করে হাওয়া, সকরুণ করে;
একটি সরল স্বপ্নের কাছে নিজেকে খুলতে থাকে কেউকেউ
অপার সৌধের দিকে, ধীরে৷

ঘুম হয়, গ্লানি হয়, দেখা হয় অনিত্য পত্রালি; নিজের বিষাদ শেষে নিজের কক্ষপথে
পুরোপুরি ঘুরে আসে পৃথিবী, তাকে ছায়া দিতে দিতে আসে প্রাচ্যধূসর মেঘ;
অম্লান কোঁচবক, ডালে বসে সূর্যাস্তকে দৃশ্য দেয়, দেয় কারুকার্য, দেয় ব্রহ্মাসাঁকোর
পারাপার-কল্পনা!

বন্যা

বলেছো
—স্বপ্ন একটা লাটিম

বলেছো
—লাটিম একটা ঘূর্ণন

আমি কি তারপর থেকে
বুক-পকেটে কলম রাখি নি আর?

আমার যেসব গ্রহ তোলপাড় করা ঘূর্ণন
ভালো লাগে, লিখে রাখা ভালো লাগে, স্বপ্নকে ভালো লাগে;
তবুও চরাচর প্লাবিত করে কাঁদছো কেনো মানুষ?

এতখানি দূরে, অরণ্য স্পর্শে এসে
ঘৃতকুমারীর পাতারা সবুজ ডাল ভেঙে পড়ে আছে বাবলা গাছের!

আর দেখো—
শিকার হবার উৎকণ্ঠা হরিণীর চোখে জ্বলজ্বল করে;
বর্ষাকাল এসে তাকেও করেছে স্নাত, কলিজা ছিন্ন করে
তারপর হয় বজ্রপাত, পাখিদের টুটে যায় ভাষার সেঁজুতি, জনপদ বন্যাবন্দী দূরে!

ধ্যান

আমার চোখের থেকে সরে গিয়ে ঘুম
অট্টহাসির খুপরি পেয়ে বসে, মশকরা করে মাঝরাতে!
চিনে নিই সম্পর্কের ফণা ও কুণ্ডলী যতো!

জাগ্রত চোখের কাছে, মুখর তারাও তখন নীল
ধ্যানের রাগিনী ফুল!

ভাবনাসঙ্গে সাধুদের পদচ্ছাপ ধরে গিয়ে
বহুদূর ভ্রম, বহুদূর ছুটে গিয়ে ফেরে আত্মশ্লাঘা—

তারপর
হঠাৎই জুরিগাড়ি বিকল হওয়া
মরু-যাত্রার মতন, অসহায় সমর্পণ ক্রমে;
আকাশের মেদ ঝরে মেঘ নেমে অঝোর বর্ষণে হিম!

তারও খানিকপরে ধীর হয়, ঋজু হয় ক্রমে, নাগধর্ম হৃদয়ে যতো৷


 

সাজ্জাদ সাঈফ

জন্ম-২৯ জুন, ১৯৮৪, ঢাকা।

মনোরোগ ও মাদকাসক্তি রোগ বিষয়ে থেসিস পার্ট, স্নাতকোত্তর।

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ :
কবি নেবে যীশুর যন্ত্রণা (২০১৭), তিউড়ি, ঢাকা।
মায়ার মলাট (২০১৯), জেব্রাক্রসিং, ঢাকা।
ভাষার সি-বিচে (২০১৯), গিলগামেশ, কলকাতা।

One response to “খুরের আওয়াজ ফেলে এসেছে কোথাও”

  1. আরাফাত রিলকে says:

    ভালোবাসা কেবল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *