তেলাপোকা

ইকবাল হাসানের গল্প - তেলাপোকা

456 Views

Spread the love

কখনো মাকড়শার কংকাল, করোটির হাড়, মৃতের কাফন, কখনো মরা মাছের ঘোলাটে চোখ দেখা দেয়। যেন আশেপাশেই থাকে, ও দেখে না। আমি দেখি। আজ দেখলাম, ক্যাকটাস। সারা শরীরে যেন বিশাক্ত কাঁটা।

তেলাপোকায় ঘর ভরে গেছে। টের পাচ্ছো? না পাচ্ছো না?

কোথায় তেলাপোকা? আমি তো দেখছি না।

তুমি কিভাবে দেখবে? তুমি তো অন্ধ। ইউ আর সিম্পলি ব্লাইন্ড।

বাড়ি আছে বলেই তেলাপোকা, যাদের বাড়ি নাই তাদের তেলাপোকাও নাই। মনে মনে বলি।

আমি এখন তেলাপোকা নিয়ে তেমন চিন্তিত নই, তবে অই কথাটা, ইউ আর সিম্পলি ব্লাইন্ড, কথাটা আরিজোনা, টেক্সাসের ক্যাকটাসের মতো আমাদের দুজনের কথার মাঝখানে এসে দাঁড়ালো। এ নতুন কিছু নয়। আমাদের কথাবার্তার মধ্যে প্রায়ই এধরনের উৎকট ব্যাপার ঘটে। কখনো মাকড়শার কংকাল, করোটির হাড়, মৃতের কাফন, কখনো মরা মাছের ঘোলাটে চোখ দেখা দেয়। যেন আশেপাশেই থাকে, ও দেখে না। আমি দেখি। আজ দেখলাম, ক্যাকটাস। সারা শরীরে যেন বিশাক্ত কাঁটা।

ইউ আর সিম্পলি ব্লাইন্ড—কথাটায় সত্যতা ৫০%, আমার বাম চোখে গ্লুকোমা, বছর দুই আগে অপারেশন হয়েছিলো। তারপর একটু একটু দেখতে পেতাম। আর এখন কে যেন অই বাম চোখে অমাবস্যার আগের রাতের মতো হালকা একটা কালো পর্দা টানিয়ে দিয়েছে পুনরায়। কিন্তু ডান চোখে তো আমি ক্ষমার নাড়িভুঁড়ি পর্যন্ত দেখতে পাই, রশিদ চৌধুরীর ট্যাপেষ্ট্রি ‘মানুষের হৃদপিণ্ডে’র মতো। ও জানে।

হ্যাঁ, ক্ষমা আমার স্ত্রী। তার চোখমুখ এখন লাল। রেগে গেলে ক্ষমার চোখ লাল হয়, আজো হলো।

বললো, তোমাকে দেখতে হবে না। কোনো কাজ তো করো না, অন্তত একটা কাজ করো আজ। পেষ্ট কন্ট্রলে ফোন করে এক্সটারমিনেটর ডাকতে হবে। নম্বর ফোন বুকে পাবে। আমি বাইরে যাচ্ছি।

ক্ষমার বাইরে যাওয়া আর ঘরে থাকা আমার জন্য একই কথা। আমি তো জানতে চাইনি কোথায় যাচ্ছে। মনে মনে বললাম, এটা একটা এক্সপ্লানেশন, মহিলারা বাইরে গেলে দেয়। পুরুষরা দেয় না, প্রয়োজন মনে করে না।

ইদানিং যখন-তখন চলে আসে ক্ষমা, আজো এলো। বাইরে যাচ্ছি বলে চলেও গেলো।

ক্ষমা চলে গেলে আমি হাসপাতালের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই, দেখি—তেলাপোকার মতো হালকা বরফ পড়ছে আকাশ থেকে, সাদাসাদা তেলাপোকা। আর এই ঝিরঝিরে বরফের ভেতর জানালার বাইরে পড়ে আছে পিৎজার মতো এক স্লাইস জীবন, জাষ্ট লায়িং লাইক এ স্লাইস অব পিৎজা।

আমি সারাঘরে তেলাপোকা খুঁজতে লাগলাম।

আপনারা হয়তো ভাবছেন, সদ্য কাফকার মেটামোরফসিস পড়ে আমি একটা গল্প ফাঁদার চেষ্টা করছি। ব্যাপারটা আদৌ  তা নয়। তেলাপোকা কোনো জায়েন্ট ইনসেক্ট নয়। আলো দেখলে দৌঁড়ে পালানো নিতান্ত ছোট্ট একটা প্রাণী, ক্ষমার মতো সব মহিলা এই প্রাণীটাকে ভয় পায়। ওর নাকি গা গিদগিদ করে।

আমি তো তেলাপোকা না। আমাকে দেখলেও তো তোমার গা গিদগিদ করে। করে না?

সবসময় করে না। কখনো কখনো করে, তুমি যখন ষ্টুপিডের মতো অ্যাক্ট করো তখন।

যেমন?

যেমন তুমি যখন মানুষের সামনে নাকের ভেতর, কানের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে চুলকাও। ডিজগাস্টিং।

তেলাপোকারা তো নাকের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে চুলকায় না। তারপরও তো তুমি বলো, তেলাপোকা ইজ ডিজগাস্টিং।

হ্যাঁ, বলি তো। তুমি মনোযোগ দিয়ে তেলাপোকা দেখেছো কখনো? অযথা বাহাজ করছো কেনো? তুমি আসলে কী বলতে চাও? হোয়াট ইজ ইওর পয়েন্ট?

বাহাজ করছি না, কিছু বলতেও চাচ্ছি না অ্যান্ড দেয়ার ইজ নো পয়েন্ট অ্যাট অল।

ব্যস, তাহলে এখন চুপ করো। জাস্ট শাটআপ।

ওকে।

কেউ শাটআপ বললে তো আর কথা বলা যায় না, অতএব আমি নিশ্চুপ থাকাই সাব্যস্ত করলাম।

ক্ষমার সামনে আমি এখন চুপচাপ বসে থাকা যেন এক অস্থিমজ্জাহীন পাথরবিশেষ।

আর আমার এই নিশ্চুপ থাকার ভেতর পথ দিয়ে সময় বয়ে গেলো নিরন্তর, দিন গেলো, মাস গেলো, বছর গেলো। সহসা তাকিয়ে দেখি, আমার সামনে দিয়ে বিশালকায় সাপের মতো একটা লোকাল ট্রেন চলে যাচ্ছে ধীরলয়ে, নিঃশব্দে…, জানালায় ক্ষমা! বিমর্ষ, মলিন ও ফ্যাকাশে। দৃষ্টি তার স্থির এই বিপুল পৃথিবী থেকে দূরে অন্যকোথা, অন্য কোনোখানে।

মিষ্টি করে হাসে ক্ষমা। সহসা যেন কোথাও থেকে ছুটে আসা এক টুকরো অপার্থিব আলো ক্ষমাকে উজ্জ্বল করে তুলে মুহূর্তেই নিঃশেষিত হয়।

এখন দুপুর না রাত, বিকেল না সন্ধ্যা—মাথার উপর নক্ষত্রহীন যদিও আকাশ, সামনে লেক অন্টারিওর বিস্তৃত জলজ প্রান্তর এবং অনতিদূরের সুউচ্চ টাওয়ার দালানকোঠা এমনই ধোঁয়াশে অস্পষ্ট, সব যেন অনুমান নির্ভর, যেন পার্কের এই শীতল বেঞ্চ নিজেও জানে না তার অস্তিত্বের কথা, যেন বায়বীয় কোনো গ্রহ, যার উপরিতল নেই কোনো—আর জিরো গ্রাভিটির ভেতর যেন শূন্যে ভাসমান আমি, ভেসে যাচ্ছি, ভেসেই যাচ্ছি শুধু।

ক্ষমা এসে উদ্ধার করে আমাকে।

এতরাতে এই পার্কে একা একা বসে আছো কেনো?

ক্ষমার কথায় জানা হয়, এখন রাত তাহলে!

একা কোথায়? এই যে তুমি এসে গেছো।

এ কথায় মিষ্টি করে হাসে ক্ষমা। সহসা যেন কোথাও থেকে ছুটে আসা এক টুকরো অপার্থিব আলো ক্ষমাকে উজ্জ্বল করে তুলে মুহূর্তেই নিঃশেষিত হয়।

তোমার এভাবে হাসপাতাল থেকে বের হওয়া ঠিক হয়নি।

হাসপাতাল থেকে বের হয়েছি মানে?

মানে আবার কী! তুমি কি ভাবছো, তুমি হাসপাতালেই আছো?

হ্যাঁ। এই যে আমার চারপাশে তুমি যা যা দেখছো সবকিছু তো এখন হাসপাতালের আওতার মধ্যে। এই যে তুমি-আমি, এই যে আমরা এখানে বসে আছি, আমরা তো হাসপাতালের মধ্যেই আছি। ইট’স অ্যান এক্সটেনশন, এক্সটেনশন অফ এ মেন্টাল হসপিটাল।

চুপ করো, এসব শুনতে আমার ভালো লাগে না।

মৃত মানুষের আবার ভালোলাগা মন্দলাগা কী!

আমি না হয় মৃত, আর তুমি?

আমার কোনো ভালোলাগা মন্দলাগা নেই তোমার মতো। বেঁচে থেকেও মাঝেমাঝে মনে হয় মৃত। মনে হয়, মৃতের কাফন পড়ে বেঁচে আছি। তবু বেঁচে তো আছি।

না থাকার মতো। আসলে তুমি-আমি-আমরা সবাই মৃত। উই আর ডেড পিপল।

তুমি মৃত। আমি পুরোপুরি মরিনি এখনো।

কল্যানী, কল্যানী…, কে যেন! যার সঙ্গে তুমি ঘুমিয়েছিলে! এবার মনে পড়ছে? আমি কল্যানীর সঙ্গে ঘুমিয়েছি? হ্যাঁ, ঘুমিয়েছো। কবে? কখন? কোথায় ঘুমিয়েছি? আমাদের বিয়ের পরপরই, ঢাকায়। তুমি তখন সুস্থ ছিলে। আমার মনে পড়ছে না।

আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না আমি কোথায়? কেনো এত অচেনা সবকিছু? এত অপরিচিত লাগছে কেনো?

কেনো মাথার ভেতর যখন-তখন ঢুকে পড়ছে অন্ধকার?  আর এখন এই অন্ধকারের বিশাল জলরাশি সাঁতরে এ আমি কোথায় যাচ্ছি…

ক্ষমা এলো ঠিক এ সময়। এসেই বললো—

কল্যানী ফোন করেছিলো এক দুপুরে, তোমাকে বলা হয়নি। তুমি তখন অসুস্থ…

আমি অন্ধকারের বিশাল জলরাশির ভেতর ভেসে যেতে যেতে বলি,

কল্যানী! কোন্ কল্যানী ?

চারদিকে এত এত ধূলো আজ, আর এত নিকশ অন্ধকারের প্লাবন যে কোনো কিছুই স্পষ্ট হতে পারছে না।

আহা, চেনো না বুঝি!

না, সত্যি বলছি, মনে করতে পারছি না।

চেষ্টা করো।

কল্যানী, কল্যানী…, কে যেন!

যার সঙ্গে তুমি ঘুমিয়েছিলে!

এবার মনে পড়ছে?

আমি কল্যানীর সঙ্গে ঘুমিয়েছি?

হ্যাঁ, ঘুমিয়েছো।

কবে? কখন? কোথায় ঘুমিয়েছি?

আমাদের বিয়ের পরপরই, ঢাকায়। তুমি তখন সুস্থ ছিলে।

আমার মনে পড়ছে না।

স্বাভাবিক।

কী স্বাভাবিক?

এই মনে না পড়া। ঘরের কাজের মেয়ের সঙ্গে ঘুমানোর কথা মনে না থাকাই স্বাভাবিক।

আমার মনে পড়ছে না অথচ তুমি মরে গিয়েও সব মনে রেখেছো।

হ্যাঁ, রেখেছি। কারণ, ওটা একটা ক্ষত, দগদগে ঘা। মরার পরও বয়ে বেড়াচ্ছি। কল্যানী ফোন না করলে আমার তো কিছুই জানা হতো না।

আমাদের ঘরে কাজের মেয়ে ছিলো? কল্যানী নামে?

হ্যাঁ, ছিলো। আমার মা দিয়েছিলেন ঘরের কাজে আমাকে সাহায্য করবে এক-আধটু, আর তুমি তাকে লাগিয়েছিলে অন্য কাজে।

তাই নাকি?

হ্যাঁ, তাই।

আচ্ছা একটা কথা, সবকিছু এমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে কেনো? তুমিই কল্যানী না তো?

মরণ আমার! আমি কল্যানী হতে যাবো কোন দুঃখে? আমার পেটে কি বাচ্চা এসেছিলো?

সহসা যেন ঝাপিয়ে পড়লো অন্ধকার, কী বলছো এসব! কল্যানীর পেটে…

হ্যাঁ, কল্যানীর পেটে তোমার বাচ্চা। মেয়েটা যেন সহসাই সমুদ্রে পড়লো। তারপর পালালো একদিন। একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি, কল্যানী নেই!

কোথায় গেলো তোমার অই গল্পের কল্যানী?

আমি কী করে জানবো কোথায় গেলো! গল্পের কল্যানী বলছো? ওতো গল্পের কেউ নয়, বাস্তবের। বাস্তবের রক্তমাংসের মানুষ। যার সঙ্গে তুমি সেক্স করেছিলে! যে তোমার সন্তান পেটে নিয়ে পালিয়েছিলো। আর তুমি…, তুমি…

আমি কী?

তুমি এতটাই কাওয়ার্ড যে মেয়েটিকে ধরে রাখতে পারলে না। অন্ধকার ওকে গিলে ফেললো, তুমি ফিরেও তাকালে না। সেদিন ফিরে তাকালে, ধরে রাখলে আজ অন্তত কল্যানীকে তোমার পাশে পেতে।

আমি কল্যানী বলে কাউকে মনে করতে পারছি না।

আমাকে মনে করতে পারছো? বলো তো আমি কে?

হ্যাঁ, তাই তো! তুমি কে? কে তুমি? তোমাকে ক্ষমার মতো লাগছে দেখতে!

আমিই ক্ষমা, তোমার বিয়ে করা বৌ। যাকেও গিলে খেয়েছে অন্ধকার। আজ দেখো, তোমার পাশে কেউ নেই। আমিও নেই, কল্যানীও নেই। তুমি একা।

একতাল জমাটবাঁধা অন্ধকার আমার মগজের ভেতর ঢুকে গেলে আমি সেই ঘনবদ্ধ অন্ধকারের নাড়িঁ ছিড়ে নবজাতকের মতো চিৎকার করে ওঠি। আমার চিৎকারে এক তরল আলোড়নের সৃষ্টি হলে এই প্রথমবারের মতো আমি ক্ষমার স্পর্শ পেলাম, যেন আমাকে এক অর্থহীন আলিঙ্গনের ভেতর জড়িয়ে নিতে চাইলো।

আজ কদিন ধরে মনে হচ্ছে, দেয়ালগুলো আমাকে গিলে ফেলবে! প্রথম যেদিন আমাকে এঘরটায় ঢুকানো হয়েছিলো, দেয়ালের রং ছিলো, যতদূর মনে পড়ে, অফ হোয়াইট। আর এখন মনে হচ্ছে, কালো। ভয়াবহ রকম ডার্ক। দেয়ালজুড়ে যেন অন্ধকারের থাবা। নিকশ কালো অন্ধকার, প্রেতের মতো যেন রাক্ষুসে ক্ষুধা নিয়ে তেড়ে আসছে আমার দিকে। আমি আজ ক্ষণে ক্ষণে চিৎকার করে ওঠছি, কিন্তু সাড়া দিচ্ছে না কেউ। কেউ কি কোথাও নেই?

আজ যেন অন্ধকারে দেয়াল ফুঁড়েই বেড়িয়ে এলো ক্ষমা।

ওভাবে চিৎকার করছো কেনো? তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে?

না, কষ্ট হচ্ছে না। তবে ভয় তাড়া করছে।

কিসের ভয়?

তেলাপোকার!

কোথায় তেলাপোকা?

তুমি দেখতে পাচ্ছো না? অই দেখো, দেয়াল জুড়ে লক্ষ লক্ষ তেলাপোকা! তুমি দেখতে পাবে না, ইউ আর সিম্পলি ব্লাইন্ড।

মৃতেরা সব দেখতে পায়, জীবিতেরা পায় না। এই যেমন ধরো, পর্ব, একটু আগে আমি পর্বকে দেখে এসেছি। আহা, কী যে ভালো লাগলো। প্রায় প্রতিদিনই যাই, ওকে দেখে আসি।

পর্ব? পর্ব কে?

তোমার ছেলে পর্ব, কী অবাক লাগছে? কল্যানী আর তোমার ছেলে পর্ব। ওর বয়স এখন সাত। ভারি ফুটফুটে, একদম মায়ের আদল পেয়েছে।

কী বলছো তুমি! পর্ব আমার ছেলে হতে যাবে কেনো?

পর্ব তোমার ছেলে। যদিও সবাই জানে, কল্যানীর আগে কোথাও একটা বিয়ে হয়েছিলো, লোকটি ওকে একটি বাচ্চা দিয়ে মরে গেছে। আসলে আমি তো জানি সে মরেনি, এই তো আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। কাওয়ার্ড।

না কল্যানী, না পর্ব—কারো অবয়বই আমার কাছে স্পষ্ট নয়। ঠিক এ সময় একতাল জমাটবাঁধা অন্ধকার আমার মগজের ভেতর ঢুকে গেলে আমি সেই ঘনবদ্ধ অন্ধকারের নাড়িঁ ছিড়ে নবজাতকের মতো চিৎকার করে ওঠি। আমার চিৎকারে এক তরল আলোড়নের সৃষ্টি হলে এই প্রথমবারের মতো আমি ক্ষমার স্পর্শ পেলাম, যেন আমাকে এক অর্থহীন আলিঙ্গনের ভেতর জড়িয়ে নিতে চাইলো।

তুমি আমাকে এভাবে একা রেখে চলে গেলে কেনো ক্ষমা?

আমি তো ইচ্ছে করে যাইনি। বেঁচে থাকার কোনো পথ তো তুমি আমার জন্য অবশিষ্ট রাখোনি অর্ণব।


ইকবাল হাসান

কবি ও গল্পকার। সত্তরের জনপ্র্রিয় উল্লেখযোগ্য কবিদের অন্যতম।

 জন্ম :

 ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫২, বরিশালে, একটা বিদেশি মিশনারি হাসপাতালে। অর্থনীতিতে স্নাতক।

বসবাস :

জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বর্তমানে কানাডার টরন্টো।

পেশা :

দেশে সাংবাদিকতা এবং বিদেশে কখনো ব্যবসা, কখনো স্রেফ শ্রমজীবী।

প্রকাশিত গ্রন্থ :

অসামান্য ব্যবধান [কবিতা ১৯৮৬, আগামী], মানুষের খাদ্য তালিকায় [কবিতা ১৯৮৬, বইমন্চ], কপাটবিহীন ঘর [গল্প ১৯৯৪, আগামী ], জ্যোৎস্নার চিত্রকলা [ কবিতা ১৯৯৭, অনাদি], দূর কোনো নক্ষত্রের দিকে [কবিতা ২০০০, ব্যতিক্রম], মৃত ইঁদুরও মানুষের গল্প [গল্প ২০০০, আগামী], দূরের মানুষ কাছের মানুষ [ব্যক্তিগত নিবন্ধ/এলবাম ২০০০, ব্যতিক্রম], আশ্চর্যকুহক [উপন্যাস ২০০২, আগামী], শহীদ কাদরী কবি ও কবিতা [সম্পাদনা ২০০৩, আগামী], জলরঙে মৃত্যুদৃশ্য [কবিতা ২০০৩, আগামী], ছায়ামুখ [উপন্যাস ২০০৪, অন্যপ্রকাশ], কার্তিকের শেষ জ্যোৎস্নায় [গল্প ২০০৪, পারিজাত], দীর্ঘশ্বাসের পাÐুলিপি [নিবন্ধ ২০০৪, পারিজাত], প্রেমের কবিতা [কবিতা ২০০৪, অন্যপ্রকাশ], ইকবাল হাসানের বারোটি গল্প [গল্প  ২০০৫, অন্যপ্রকাশ], নির্বাচিত ১০০ কবিতা [কবিতা ২০০৯, অন্যপ্রকাশ], যুগলবন্দি [কবিতা ও সৈয়দ ইকবালের চিত্রকর্ম ২০১০, রয়েল], আকাশপরী [কবিতা ২০১০, রয়েল], চোখ ভেসে যায় জলে [প্রবন্ধ/নিবন্ধ ২০১০,অনন্যা], সুখলালের স্বপ্ন ও তৃতীয় চরিত্র [গল্প ২০১০, অনন্যা]। আর্কিটেক্ট [উপন্যাস, রয়েল, ২০১২] গল্পসমগ্র [গল্প ২০১২, রয়েল], পরী, হূমায়ূন আহমেদ ও ঝরা পালকের গল্প [মুক্তগদ্য ২০১২, রয়েল], আলো আঁধারে কয়েকটি সোনালি মাছ [সময়, ২০১৬] একদা চৈত্রের রাতে [রয়েল, ২০১৬], প্রেম-বিরহের অনুকাব্য [পরিবার, ২০১৬], নির্বাচিত গল্প [ গল্প, ধ্রæবপদ,২০১৬] ছায়ামুখ ও আশ্চর্যকুহক [ যুগল উপন্যাস, ২০১৬, অনিন্দ্য], কিছু কথা কথার ভেতরে [পরিবার, ২০১৬], শহীদ কাদরী স্মারকগ্রন্থ [সম্পাদনা, বাংলা একাডেমি, ২০১৮], রিমান্ড, তেলাপোকা ও আকাশপরী [বৈভব, ২০১৯] ইত্যাদি।

পুরস্কার :                    

বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার।

ই-যোগ

iqbalhasan2003@yahoo.ca

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *