পাখিদের ভ্রমণগান

322 Views

Spread the love

ব্লজের কবিতা সহজাত আমেরিকান জীবনযাপন সংস্কৃতির  হারানো ঐতিহ্য এবং প্রতিকৃতির যেন বিপুল বিভার সম্মোহন। 

কিম্বেরলি ব্লজের একজন জার্মান বংশোদ্ভূত আমেরিকান লেখক। তিনি একাধারে কবি, সমালোচক, প্রাবন্ধিক, ও কথাসাহিত্যিক। ১৯৫৫ সালের ৩১ আগস্ট আমেরিকার মন্টানো বিলিংসে জন্মগ্রহণ করেন। মিনেসোটা চিপাওয়া উপজাতির সদস্য। নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জনের পূর্বে সাংবাদিকতা করতেন।

ব্লজের কবিতা সহজাত আমেরিকান জীবনযাপন ও সংস্কৃতির  হারানো ঐতিহ্য এবং প্রতিকৃতির যেন বিপুল বিভার সম্মোহন। তাঁর কবিতা সংকলনসমূহের  মধ্যে রয়েছে—

 

অ্যাপ্রেন্টিসড টু জাস্টিস (২০০৭)) 

অ্যাবসেন্ট ইন্ডিয়ান অ্যান্ড আদার পোয়েমস (২০০২)

এবং ট্রেইলিং ইউ (১৯৯৪)

ট্রেইলিং ইউ (১৯৯৪) আমেরিকার প্রথম বইয়ের পুরষ্কার নেটিভ রাইটার্স সার্কেল অর্জন করে। ব্লজের হোয়াইট আর্থের লেখক জেরাল্ড ভিজেনর রাইটিং ইন দ্য ওরাল ট্র্যাডিশন ১৯৯৬) এর সমালোচনা সমীক্ষার লেখকও।

উইসকনসিন ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতি ও নৃবিজ্ঞান এবং আমেরিকান ভারতীয় ও আদিবাসী শিক্ষার জন্য ডি’আর্সি ম্যাকনিকল সেন্টারের উপর তার কাজসমূহ সরকারি অনুদান ও ফেলোশিপের সঙ্গে স্বীকৃত হয়।

তিনি মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান ভারতীয় শিক্ষা সিরিজ এবং নেব্রাস্কা প্রেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় জীবনী সিরিজ সম্পাদকীয় বোর্ডগুলোর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্থানীয় লেখক ও গল্পকারদের ওয়ার্ডক্রাফ্ট সার্কেলের সহ-সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে উইসকনসিন, মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসাবে বহুজাতিক সংস্কৃতি লেখকদের সংগঠন ওয়ার্ড ওয়ারিয়র্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

তিনি মফশ্বল উইসকনসিনে তার পরিবারের সাথে থাকেন। ২০১৭ সালে তিনি উইসকনসিন প্রদেশের কবি অভিহিত হন।    

কিম্বেরলি ব্লজের হাইকু

বসন্ত

প্রতিটা পাইনের ডগা যেন

টেলিফোন খাম্বার পেরেক সে কোনো,

আঁকড়িয়ে ধরে থাকে কুহক-বর্ণ ।

 

রে উন্মার্গগামী রাই,

পিচরোড উপচানো আর‌ণ্যক হাওয়াই

ডানে বামে ঘোরে—পোড়ে সহসাই।

 

ঘুপচি গলিতে ইঁদুর ধরার কল,

ত্রিভুজ সুঁড়ঙ্গ, বিপুল ব্যাঞ্জণায় প্রবল;

মুখ ও চিবুকে স্ফীত—চপল।

 

ফাল্গুনী দোলন-দুপুরে

বাদামি পশমভাঁজ ফুঁড়ে ফুঁড়ে

ড্যান্ডেলিয়ন ফোটে—গান ও গহন জুড়ে।

 

গ্রীষ্ম

 

—হিংস্র সিংহ সে-ই তো,

কাঠবাদামের বনে হাঁফরের মতো

একটা মণ্ডুশিলা উঠা—নামারত।

 

কুকুরও ওঠে কড়া পায়,

কাঠবেড়ালের দেহে বিদ্যুৎ বয়ে যায়,

সে-ই এক প্রাচীন ব্যাঞ্জণা—আদৌ ডানা ঝাপটায়।

 

তুষারসারস, নদী আর সমুদয়

আকাশের বিরুদ্ধে  শুভ্র মেঘলাভয়,

ন্যুজ্ব ক্ষতগুলো—ভাস্কর্যময়।

 

ডোরাকাটা মস্তকজাত পাখি,

ওগো, ব্যালেরিনা হন্তারক আগুনী আঁখি—

আমাকে টুকরো করো, যেন মরে যেতে শিখি!

 

পতন

 

হিমেল হাওয়া ব্লেজারে ঢোকে,

স্তনে আর্তনাদ, বন্ধ্যাগাছও—শোকে

কাঁপে শূন্যতা, খড়কুটো, বেড়িবাঁধ!

 

নির্ঘুম কার্তিকচাঁদ!

একাকী তরুণ, উজ্জ্বল কৃ্ষ্ণাঙ্গরাত

খুলে খুলে হাতড়ায় স্বর্ণাভ স্মৃতিপাত।

 

বিবর্ত মেঘাকাশ,

বন্ধ্যাগাছের ডালে যূথবদ্ধ পাতায় আলোশ্বাস,

পাখিদের ভ্রমণগান—

 

অঘ্রানে জ্যোৎস্না ছোড়ে।

প্রতিভাত প্রান্তর গমশিষে ওড়ে,

সোনালি শস্যনির্ঝর যেন—প্রবাহমান।

 

 

রেজাউল ইসলাম হাসু

জন্ম ১০ ডিসেম্বর, ১৯৮৭; রংপুর।

শিক্ষা : হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা।

পেশা : চাকরি [একটি বেসরকারি সংস্থায় উন্নয়ন-কর্মী হিসেবে।]

প্রকাশিত বই—
ওকাবোকা তেলাপোকা [শিশুতোষ, ২০১৬]
এলিয়েনের দেশ পেরিয়ে [শিশুতোষ, ২০১৭]

ই-মেইল : rejaulislamhashu1987@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *