বইমেলায় আসছে রঞ্জনা বিশ্বাসের ‘বাংলাদেশের লোকধর্ম’

77 Views

Spread the love

অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে কবি, কথাশিল্পী ও গবেষক রঞ্জনা বিশ্বাসের নতুন বই ‘বাংলাদেশের লোকধর্ম’। বইটি প্রকাশ করেছে বেহুলাবাংলা। প্রচ্ছদ করেছেন শ. ই মামুন। দাম ৮০০ টাকা।

বইটি সম্পর্কে গবেষক রঞ্জনার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধর্মের বিশ্বাস ও আচরণগত বিষয়ের দিকে নজর দিলে আমরা বিশ্বাসকে অনড় এবং আচরণগত দিকটিকে সচল বলে ধরে নিতে পারি। যখন ধর্ম তার আচরণ ও বিশ্বাসকে অনড় অবস্থানে ধরে রাখতে চেষ্টা করে তখনই সৃষ্টি হয় ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। এখানে এসে মানুষ শাস্ত্র নির্ধারিত আইন-কানুন বা নিয়ম-নীতির বাইরে যেতে যেতে পারে না।কারণ এখনে আত্মায় বিশ্বাস যেমন অনড় তেমনি আচরণগত বিষয়ের প্রতি সব সিদ্ধান্ত অনড়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অনুসারীদের পক্ষে ধর্মীয় বিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগই তৈরি হয় না। কিন্তু মানুষ তো আর যন্ত্র নয়, সে তার তার আচরণকে আত্মা দ্বারা সব সময় নিয়ন্ত্রণের পক্ষপাতীও নয়।; সেও তার অস্তিত্বের বিষয়টি জানান দিতে চায়। ফলে শাস্ত্রীয় ধর্মের সঙ্গে সৃষ্টি হয় সংঘাত। প্রকৃতির মধ্যে মানুষ যে দুর্মর প্রবল শক্তি লুকিয়ে থাকতে দেখে, তা সে নিজের মধ্যে নিজের মতো করে অনুভব করতে চায়। তখন আত্মার বিশ্বাস নয় আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে ওঠে এবং খারিজ করে দেয় শাস্ত্রীয় নিয়ম। মানুষ তখন আবার তার সামাজিক জীবনকে বৈধতা দিতে তারবিশ্বাসকে যৌক্তিক করে তোলার যাবতীয় চেষ্টা চালায়। আর এভাবে সৃষ্টি হয় ভিন্ন একএকটি ধারা যাকে আমরা লোকধর্ম বলি। এটা প্রতিবাদী আন্দোলন বা ধারা নামেও পরিচিত। আমরা চেয়েছি লোকধর্ম সম্প্রদায়গুলোর ধর্ম বিশ্বাস কীভাকব তাদের আচরণকে সচল রেখেছে তা অধ্যায়ণ করতে। আমরা চেয়েছি কীভাবে মানুষের ধর্ম বিশ্বাস নানা বৈচিত্রে, আচার-আচরণে, প্রথা -সংস্কারে বিকশিত হয়ে মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করতে। আমরা ভগবানিয়া, রাই রসরাজ, পাগল চাঁদ, মতুয়া ও বলাহাড়ি নামক পাঁচটি লোকধর্মের দর্শন, অন্যান্য ধর্মগুলোর সঙ্গে সংযোগ ও স্বাতন্ত্র, তাদের সামাজিক আচার সংস্কার ও দৈনন্দিন জীবন, প্রবক্তার জীবন ও কর্ম এই গ্রন্থে তুলে ধরেছি যেন আগ্রহী পাঠক তাদের সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।

উল্লেখ্য, রঞ্জনা বিশ্বাস ১৯৮১ সালের ১০ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের খাগবাড়ি গ্রামে খ্রিস্টান পরিবারে তার জন্ম। বাবা নির্মল বিশ্বাস ও মাতা পরিমলা বিশ্বাস। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রি। কবিতা ও ফোকলোর তার আগ্রহের বিষয়। কবিতাচর্চার পাশাপাশি ফোকলোরচর্চাকেও তিনি ব্রত হিসেবে নিয়েছেন।

ভুলস্বপ্নে ডুবে থাক আদিবাসী মন (২০০৯), আমি তিনবেলা বৃষ্টিতে ভিজি (২০১০), বেদনার পাথর ও প্রান্তিক দীর্ঘশ্বাস প্রকাশিত কবিতার বইসমূহ। জয়নালবাদশা ও রাজপুত্র তাজেম (২০১১) রূপকথা সংগ্রহ।

তার গবেষণাগ্রন্থগুলো হলো বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা (২০১১), বাংলাদেশের পালকি ও পালকিবাহক : নৃ-তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিকধারা (২০১৫), বাংলাদেশের বেদেজনগোষ্ঠীর নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয় (২০১৫), সাহিত্যে বেদে সম্প্রদায় (২০১৬), রবীন্দ্রনাথ: কাবুলিওয়ালা, সুভা ও দালিয়া (২০১২,। লোকসংস্কৃতিতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ, কিতুবীম: হিব্রু কবিতার সাহিত্যমূল্য বিষ্যুদবারের বারবেলা নামে একটি উপন্যাসও রয়েছে। ‘বাংলাদেশের পালকি ও পালকিবাহক’ বইটির জন্য পেয়েছেন ‘কালি ও কলম তরুণ কবি ও লেখক পুরস্কার-২০১৫’ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *