বিলাপ অথবা ঘুমন্ত মোমের পৃষ্ঠপোষকতা

332 Views

Spread the love

একা হয়ে দাঁড়াও

‘উদ্যান, তুমি কতটুকু উদ্যান?’

এমন পর্যাপ্ত প্রশ্ন ঝুলিয়ে এখনো
উদভ্রান্ত বালকের মতো শিক-বালা হাতে
বেড়িয়ে পড়ি ঋতুহীন দিগন্তের দিকে…

একটা কাঠবাদাম কিংবা সমুদ্রের সামনে
তুলে ধরা গল্পটাও মানুষের।

সম্পর্কহীন শীতকাল তাই দীর্ঘ করতে চাই না…
হাত উঁচিয়ে আছে পাখিবিছানো পথ
যার শিস—আমার গান থেকে অন্য কিছু নয়।

আরো একবার তাই যুদ্ধাহত সভ্যতার ডানায়
অপাঠ্য হতে স্বপ্নদোষ এড়িয়ে যাই,
একটা উপযুক্ত গোধূলির কাছে
শ্রীকীর্ত্তন ফাঁস হয়ে গেলে—অবর্গীয়
উদ্যান ও মহাকাল বিষয়ক প্রশ্ন তুলে বলি—

একা হয়ে দাঁড়াও, একা হলে সব দেখা যায়।

 

বিলাপ অথবা ঘুমন্ত মোমের পৃষ্ঠপোষকতা

ধোঁয়াপোকা দাঁতের নিচে পৃথিবীটা আপেলের বিচি,
জ্যাঁক লাকা জ্যাঁক লাকা খিচি খায় কালের মসি।
য্যানো একটা সিনেমাদৃশ্যে ছড়িয়ে পড়ছে শিসা
পুড়ছে আলো, আসবাব, জীবনের অন্তিম ভিসা।

বেহেস্তের কত নম্বর চাবি নিয়ে ঘুমিয়েছ তুমি?

বেলা দেখে ফিরে গেছে অপেক্ষার সাবালিকাচাঁদ
হৃদপিণ্ডে ছাপা হয়ে গেছে বিষণ্ন শাবলের কোপ,
দৃশ্যের বাইরে এই বেঢোপ আর্তনাদের বিবাদ
কতটা বুর্জুয়া স্বভাব! কতটা ট্রাম্পপাতার ঝোপ!

গল্পের দিকে সরে গেছে ক্ষুধার্ত কফিনের জীবন
সৎকার শেষে নতুন করে সাজাই জন্মের বিবরণ,
পারবো কী সাজাতে এই শাখাহীন ব্যথাসন!
হাঁটতে চাই, কোথাও পাচ্ছি না খুঁজে বর্ণীয়চরণ।

 

বিস্তৃতি

‘মানুষ উড়তে চায় কেন?’—জানতে চেয়ে
আমার পাখিপিতার কাছে একদিন চিঠি লিখেছিলাম;

কোন উত্তর নেই, কোলাহল নেই
অনেকটা অন্যমনস্কতার মতো আমার বাবা
উড়িয়ে দিয়েছিলেন পালকভরা উষ্ণতা;

আমার একপাশে আমি, অন্যপাশে বাবা
সম্মুখে একটা পৃথিবী রেখে
নিজেরাই নিজেদের ওজন নিতে থাকি…

কোনদিন জানতে চাইনি ‘মানুষ উড়তে চায় কেন?’

 

 

সেমিনার ও সম্পূরক পরামর্শ পালনের দেনদরবার

অসমিয়া অন্ধকারের পিছুলাগা যে—সকল ফুটনোট ছড়িছে সকাল
আমি তার বাক্যাংশে একজীবন কাটিয়ে এসেছি।

ভরপুর দুপুর অথবা অঙ্কুর ছড়ানো শুক্রবার ছিল কি না!
অথবা বিনা পারমিশনে ঢুকে পড়া বৃষ্টির বেয়দবি ছিল কি না!
সেসব ডিসকাভারি কায়দায় সমীহ করা গেলেও
রাগ দমানো উচ্চশিক্ষার কাণ্ডারে
সংশয় ও সংকোচের যে—সকল তারিখ পিটপিট করে
তাকে ভয় পাওয়ার কিছু নাই।

বীক্ষণের সবুজ বাতি, ব্যাপ্তির বেড়ালমুখ
কিংবা ঘুমজড়ানো মনের জট খুলে একদিন উড়বেই স্বতন্ত্র ঘুড়ি।
জানি, রোদফুল ঝরে পড়লে
উল্লাসে ফেটে পড়বে মেঘপুত্র। পড়ুক!
আমি তার অভিমানি ডায়েরিতেও একজীবন কাটিয়ে আসতে চাই।

 

 

ডানা কেটে ছায়ার গল্প ছোট করতে চাই না

এইমাত্র বাজি ধরে দাঁড়িয়েছে সময়। চার ফর্মায়—কবিও বাজি রেখেছে জীবন। কতিপয় শূন্যতাপূরণের দাবি নিয়ে
জাদুকরের হাত থেকে যখন-তখন ভাঁজ খোলা রুমালকেও কবুতর হয়ে উড়ে উঠতে দেখেছি।

উড়ালই বড় করেছে আকাশ। বাতাসের ডানা কেটে ছায়ার গল্প তাই ছোট করতে চাই না। অসুখের প্রতিটা আঙুল সর্তকতার চাঁদ হয়ে ফুটুক।

 

 

তবুও; অস্থিরতা

একটা শীতপাখির উড়ে যাওয়া দেখে মনের ভেতর দৃশ্য হারাবার ভয় ও ভীমরুল জড়ো হতে থাকে। এমন করেই উড়ে গেছে সম্পর্কের ঘুড়ি। সরি বলা থেকে উত্তম ঘুমের গর্ত থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ছিপনৌকায় বেশি দূর যেতে পারি না। ঝাপসা লাগে পথ—পরম ও প্রাসঙ্গিক জ্যোৎস্নার শিকল। যদিও ছায়া সূর্যপত্নী আর শিকল-সম্পর্কের সর্বনাম।


হাসনাইন হীরা

 

জন্ম—সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়

তরুণ কবি ও সমালোচক

এখনো কোন বই প্রকাশ হয়নি

2 responses to “বিলাপ অথবা ঘুমন্ত মোমের পৃষ্ঠপোষকতা”

  1. মোঃ কামরুল ইসলাম says:

    শুভ কামনা রইলো ভাইটির জন্য।
    ভালো মনের একজন সাধারন মানুষ।

  2. হাসনাইন হীরা says:

    ধন্যবাদ প্রিয় সুহৃদ। ভালোবাসা জানবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *