রাশিফলের ভেতর ঝরছে অজস্র যাত্রাপথ

195 Views

Spread the love

 

যাত্রা অশুভ

রাশিফলের ভেতর ঝরছে অজস্র যাত্রাপথ।
নিরেট রাস্তায় সাঁইসাঁই করে ছুটছে অশুভচিহ্ন।
বাড়ি ফেরার কাছে উবে গেছে আয়ুরেখা।
একধারে বরফের মতো জমাট রক্ত
পোড়া হাড়মাংস আর মবিলের ঘ্রান উপেক্ষা করে
চলে যাচ্ছে বাস, ট্রাম অথবা সময়কাল…..

হে মহামতি, এবার তবে যাত্রাবিরতি নিন।
আপনি কি জানেন, পা হারাবার দুক্ষ কেমন?
আমি আমার একজোড়া জুতো কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।

 

বয়ান

আপাতত সব মুখস্থ সৌজন্যতা দুহাতে সরিয়ে রাখা যাক। এমন স্ববিরোধী খই ভাজতে গেলে মগজের কোষে অসংখ্য মথ এসে জড়ো হতে থাকে। যেন শীতকালীন সন্ধ্যায় ল্যাম্পোস্ট জ্বলে ওঠার সাথে সাথে রাজ্যের পোকারা পিকেটিঙে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর থেকে থিতু হওয়া যাক। কুয়োর ভেতর বেঘোর ডুবে যাওয়া। হাওয়া সভ্যতা, সবুজ মাচানে বেগুনি শিমফুল… ভাবতে ভাবতে ভাববার বিষয়বস্তু। ভুলে যাওয়া ভালো তবে। শেষতক, মানুষ উত্তরাধিকার-সূত্রে কিছু নিষিদ্ধ আখ্যানশাস্ত্রের জনক।

টানেলের শেষ প্রান্তে এসে—আবার উল্টো দৌড়াবার মতন, কামিজের ঘাটে দু-চারটা গল্প লিখবার মতন গুঁড়োগুঁড়ো রসায়ন জমাট বাঁধতে কোন ধনতান্ত্রিক নিয়ম মানে না। দ্যাখে না—মাসকাবারি হাতের ফাঁকে উঠানের শেষ দাগ—ক্রমাগত রক্তের ভেতর বুনে চলে ড্রাগনমুখো ইচ্ছেসমষ্টি।

 

 

আয়ুরেখা ধরে চলে গেছে যে নিরীহ জীবন

(নেপালে বিধ্বস্ত প্লেনে পাওয়া চিরকুটের প্রতি)

 

পিঠে—ডানা গজানোর ব্যথা নিয়ে পড়ে আছি।
দৃশ্যের ভেতর আমার চোখমুখে ফুটছে
পানিফলের স্মৃতি। হাওয়াইমিঠাই থেকে উড়ে যাচ্ছে
গোলাপি ঘ্রান। পুরে যাচ্ছে রানওয়ের পাশে
নিরীহ মোনালজীবন। আমার আয়ুষ্কাল নিয়ে ফুটছে
তুমুল মিলিশিয়া। ডুংরির মোতি থেকে ছুটে আসা
দুপুর ঘেঁষে আমি লিখছি…
যদি ভালো না-ও লাগে, তবু শরীরে তুলে নিও এই লাল!!

চোখের বালি ২য় পত্র

পৃথিবীর তাবৎ আখ্যানশাস্ত্রে কে যেন লিখেছিল,
রবি বাবুর প্রেমিকার আরেক নাম বালি!!!

বয়ামভর্তি জামার গল্প নিয়ে আমরা সই পাতাই

অড়বড়ই গাছে সেবার হলুদ গড়ায় ভীষণ।

চোখ চিবুক চিড়ে কে কার মায়াখণ্ড খুঁজতে যায়—বলো?
আমরা তবু হাতড়াই লোমকূপ-ভিড়।

আমাদের আঙ্গুরক্ষেত পুড়ে গিয়েছিল,

পুড়ে গেল শামিয়ানা—

কচুপাতায় জল! জলজ ঘ্রান খুঁটে খেলো ডাহুক।

দেড় শ বছর থেকে দুহাত অতল , দুহাত
গভীর ক্ষত এক!

আর কতটা ঢাকা যায় বলো—ভেলভেট থানে?

সেই শোক বুকে নিয়ে ফিরে গেছে—
ক্রুশবিদ্ধ জেসাস! আহা, তার পানপাতা হ্রদ।

জেসাস কে—চিনতে তুমি? ডাহুকের ইতিহাস?

 


চাঁদনী মাহরুবা

 

বেড়ে ওঠা নরসিংদী জেলার মাধবদীতে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এ গ্রাজুয়েশন ও পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করে একটি এনজিওতে কর্মরত।

অর্বাক লিটলম্যাগে নিয়মিত লেখক।

e-mail : mahruba355@yahoo. Com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *